রবিবার, জুলাই ২১

শিরোনাম

বাজেটের ডকুমেন্ট পাওয়া যাবে যেসব ওয়েবসাইটে * প্রধানমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন কাল * বরগুনায় আগুনে দগ্ধ গৃহবধূকে ঢাকায় স্থানান্তর * মানিকগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলায় একজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করায় পরীক্ষার্থী ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন

0
জাবেদ মামুন ।।  ফেনীর সোনাগাজীতে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এমনটাই দাবী আগুনে দ্বগ্ধ ওই ছাত্রীর। যদিও আগুনের ঘটনাটি এখনো রহস্যবৃত। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ ছাত্রীর নাম নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। সে সোনাগাজী পৌরসভার চরচান্দিয়া গ্রামের মাও. একেএম মুসা মানিকের মেয়ে। রাফি ওই মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিল।
জানা যায়, সকাল পৌনে ১০টার দিকে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রের ৮নং কক্ষে  প্রবেশ করে। এসময়  ইসরাত জাহানকে তার এক সহপাঠি নিষাদকে সহপাঠিরা মারছে বলে ছাদে ডেকে নেয়। সেখানে বোরখা পরা ৪জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে।এসময় সে রাজি না হলে ওই ৪জন দুর্বৃত্ত তারর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসার নাইট গার্ড মো. মোস্তফা ও পুলিশ কনস্টেবল মো. রাসেল জানান, “নুসরাত জাহান অগ্নিদ্বগ্ধ অবস্থায় চিৎকার দিয়ে মাদ্রাসা ভবনের দ্বিতীয়তলা থেকে নামার সময় তারা এগিয়ে গিয়ে তাকে আগুন নেভাতে গিয়ে নাইট গার্ড মো. মোস্তফা ও  রাসেলের হাত পুড়ে যায়”।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক সহ  তারা দ্রুত তাকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী সদর হাসাপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু তাহের ও সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. নূরুল আলম জানান, ‘ওই শিক্ষার্থীর শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা গুরুতর। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।‘
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, “অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ঘটনায় আত্মহননের উদ্দেশ্যে ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা, নাকি তার কথা অনুযায়ী  কোন দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।”
পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও বখতারমুন্সি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নূরুল আবছার ফারুকী জানান, ”তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক মালনায়তনে প্রশ্নপত্র নিয়ে কাজ করছিলেন, এমন সময় চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখতে পান মাদ্রাসার নাইট গার্ড মোস্তফা ও দায়ীত্বরত পুলিশ কনস্টেবল ছাত্রীর গায়ের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। তিনি সহ ছাত্রীকে হাসপাতালে পাঠান।”
খবর পেয়ে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ, মাদ্রাসার গভর্নিং কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম, এএসপি (সদর) সার্কেল উক্য সিং, এএসপি (সোনাগাজী-দাগনভূঞা)  সার্কেল সাইকুল আহম্মদ ভূঞা, সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বোরাকার পোড়া অংশ ও কেরোসিন তেল যুক্ত একটি পলিথিনের পোড়া অংশ উদ্ধার করেছে।
মাদ্রাসা গভর্নিং কমিটির সভাপতি পিকেএম এনামুল করিম জানান, “উদ্ধুত পরিস্থিতিতে আজ (রোববার) সকাল ১১টায় তার কার্যালয়ে গভর্নিং কমিটির জরুরী সভা ডাকা হয়েছে।”
এদিকে ছাত্রীর ভাই মাহমুদ হাসান নোমান জানান, “তার বোনকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে কৌশলে ডেকে নিয়ে মুখোশ পরা দুর্বৃত্তরা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের ৮০শতাংশ পুড়ে গেছে।”
প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ-দৌলাহ কে আসামী করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৪, তাং- ২৭-০৩-২০১৯খ্রি. পুলিশ তাকে তার কার্যালয় থেকে ওই দিন আটক করে ২৮মার্চ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এঘটনায় অধ্যক্ষের  মুক্তি দাবীতে ২৯মার্চ শনিবার সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করে মাদ্রাসার  শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।
এর আগে ২৮ মার্চ সকালেও দুই পৌর কাউন্সিলরের নেতৃত্বে সোনাগাজী বাজারে পক্ষে বিপক্ষে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
Share.

About Author

Leave A Reply