“সুবীর নন্দী” উনার স্থান আর কখনো পূর্ণ হবেনা!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +
একুশে পদক পাওয়া সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন মেয়ে ফাল্গুনী নন্দী। কয়েকদিন ধরে তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়ে আসছিলেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। ক্রমেই অবস্থার অবনতি হচ্ছিল; তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কাজ করছিলো না।
টানা ১৮ দিন অজ্ঞান থাকার পর সুবীর নন্দী চোখ খোলেন গত শুক্রবার। ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ এপ্রিল তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস, কিডনি ও হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি।
জানা যায়, ‘শনি, রবি ও সোমবার সুবীর নন্দীর হার্ট অ্যাটাক হয়। গত রোববার তার হার্টে চারটি রিং পরানো হয়।
গত ১৪ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে উত্তরায় কাছাকাছি আসতেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে সুবীর নন্দীর। এর পর সেখান থেকে সরাসরি সিএমএইচে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিল।’
সুবীর নন্দীর চিকিৎসার বিষয়টি সমন্বয় করেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্তলাল সেন। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি সুবীর নন্দীর বিষয়ে কথা বলেন। তার সাথে ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ, তপন চৌধুরী ও রফিকুল আলম। বরেণ্য এই সংগীতশিল্পীকে তাৎক্ষণিকভাবে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তাঁর চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন।
একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী সুবীর নন্দী ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে গেয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি গান। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রেও উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। ১৯৮১ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে। তবে চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ ছবিতে। চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন তিনি।
Share.

Leave A Reply