মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শান্তির বার্তা!

0
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় নতুন মোড় নিয়েছে। প্রতিনিয়ত দু’দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ধামকির মধ্যেও মনে হচ্ছে শান্তির বার্তা আসছে।
সম্প্রতি পরমাণু ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এমন শান্তির বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল সোমবার টোকিওতে জাপানিজ প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে যৌথ প্রেস কনফারেন্সে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংকটের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন চায় না যুক্তরাষ্ট্র। আমরা পরমাণু অস্ত্র খুঁজে বেড়াচ্ছি না। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা ইরানকে আঘাত করতে চাই না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে বহু লোক আছে, যারা শান্তি চায়।আমার বিশ্বাস বর্তমান নেতৃত্বের অধীনেই ইরানিদের মহান জাতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পারস্য উপসাগরে যখন মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে, তেহরানকে উদ্বিগ্ন করতে সক্ষমতা দেখানো হচ্ছে, তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ মন্তব্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিল।
ট্রাম্প বলেন, অনেক সমালোচনার পরও তিনি এখনও বিশ্বাস করেন তার দেশ তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করবে, এমনটি তিনি স্পষ্টও করেছেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, ইরান কোনো ধরনের পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে না। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি বহু বছর আগেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার ‘হারাম’ বা ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ বলে ফতোয়া দিয়েছেন। ইরান সরকার সর্বোচ্চ নেতার এ ফতোয়া মান্য করছে।
জারিফ এক টুইটবার্তায় বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সত্য নয়। কারণ সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে ইরান সামরিক কাজে পরমাণু কর্মসূচি থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে।
এর আগে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আরব আমিরাতের যুবরাজ বিন জায়েদকে বি-টিমের চার সদস্য বলে আখ্যায়িত করেছিলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সে বিষয়ে ইঙ্গিত করে জারিফ বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব কথা বলেছেন তা বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ট্রাম্পকে প্রমাণ করতে হবে তিনি বি-টিমের চেয়ে ভিন্ন কোনো লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছেন।
এ সময় বি-টিমের অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ ইরানি জনগণের ক্ষতি করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, যদিও ট্রাম্প শান্তির কথা বলছেন, কিন্তু ইরানের সঙ্গে ‘যুদ্ধের বার্তা’ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র এবং সামরিক সদস্য পাঠানো তিনি বন্ধ করছেন না। জাপানে যাওয়ার আগেও পারস্য উপসাগরে আরও দেড় হাজার সৈন্য পাঠিয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি হিসেবে ‘তুলনামুলক ছোট’ পদক্ষেপ এটি। এছাড়া তার নির্দেশে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে মার্কিন এয়াক্রাফট বাহক স্ট্রাইক গ্রুপ, বি-২৫ বোমা হামলার দ্রুততম স্থাপনাসহ বড় ধরনের সামরিক শক্তি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আসলে কী করতে চায় তা স্পষ্ট নয়। একদিকে তারা বলছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চান না। কিন্তু অন্যদিকে ইরানের সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন কাউকে ক্ষমতায় আনার ব্যাপারে তাদের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে এ হুমকির অন্যতম কারণ হতে পারে অস্ত্র বিক্রি ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করাসহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ইতোমধ্যে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রায় ৮০০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র সৌদি আরবের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের কাছেও অস্ত্র বিক্রি হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিরঙ্কুশ ব্যবসায়িক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চান। পাশাপাশি ইসরাইল, সৌদিসহ তার মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান।
তারা মনে করছেন, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি নেবেন না। কারণ পরবর্তী মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে চাইলে ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধবাজ’ তকমা থেকে দূরে থাকতে হবে। ট্রাম্প কী সেই পথেই এগুচ্ছে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Share.

About Author

Leave A Reply