ঝুঁকিপূর্ণ ভবণ থেকে রোগীদের নতুন ভবনে স্থানান্তরের নির্দেশ : নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শামসুল আলম

0
উজ্জ্বল রায়, (নড়াইল)  ।। নড়াইলের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতল ভবনের পুরুষ ওয়ার্ডের পলেস্তারা খসে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও রোগী অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ব্যাপারে গতকাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী শামসুল আলম, সহকারী প্রকৌশলী (যশোর-নড়াইল) তানজিলা ফেরদৌসী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুক্তি বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল সরেজমিনে হাসপাতালের পুরাতন দ্বিতল ভবনের পুরুষ ওয়ার্ডের ভেঙ্গে পড়া ছাদ, মহিলা ওয়ার্ডসহ ভবনটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ওই তদন্তকারী দল ভবনের পুরুষ ওয়ার্ডের সব গুলো গ্রেড ভিমে ছোট-বড় ফাটল দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন। যা ভবিষ্যতে ভবন ধ্বসের আশংকা রয়েছে। এ ছাড়া ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারাসহ কংক্রিট খুলে পড়ায় পুরুষ ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ন চিহ্নিত করে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশসহ ওই ওয়ার্ড ব্যাবহার না করার জন্য লিখিত ভাবে সুপারিশ করেন। এ ছাড়া মহিলা ওয়ার্ড ও ডেলিভারী রুমের ভিমেও ফাটল দেখা দিয়েছে, যা সতর্কতার সাথে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন ওই তদন্তকারী দল।
এ দিকে, ঝুঁকিপূর্ন ভবন চিহ্নিত করার একদিন পর বুধবার (১৫মে) সকালে ওই ভবনের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা হঠাৎ রোগীদের মাঝে খসে পড়লে রোগীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ওই ভবনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীরা স্ব ইচ্ছায় বাড়ি চলে যায়। বাকী রোগীরা হাসপাতালের বারান্দাসহ সিড়ি ঘড়ে আশ্রয় নেয়। এসব রোগীরা বলেন, এখানে চিকিৎসা নিতে এসে আতংকের মাঝে আছি। এ ঘটনার পরপরই জরুরী ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন নাহার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল-মামুন ওই ভবনের সকল রোগীদের নতুন ভবনে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেন। তবে স্থান সংকটের কারনে সব রোগীদের ভর্তি না করে শুধূ মাত্র গুরুতর অসুস্থ্য রোগীদের ভর্তি এবং কম অসুস্থ্য রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া, গুরুতর রোগীদের নড়াইল সদরসহ অন্যত্র চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন নাহার, নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল রায়কে জানান, এ অবস্থায় রোগী, নার্স, ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে চরম দুচিন্তার মধ্যে আছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৯ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনে সাময়িক ভাবে রোগীদের স্থানান্তর করা হয়েছে।
Share.

About Author

Leave A Reply