শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলা ২৪ জনের যাবজ্জীবন ৯ জনের ফাঁসি

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +
পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনবহরে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৩ জন আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মো. রোস্তম আলী বুধবার বেলা ১২টার দিকে এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী ট্রেনে করে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তার পথসভা করার কথা ছিল। পাকশী পৌঁছালে ওই ট্রেনবহরে অতর্কিত হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। তারা শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এতে কামরাটির জানালার কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। কোনো সাক্ষী না পাওয়ার কথা জানিয়ে একই বছর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনও দেয় পুলিশ। কিন্তু আদালত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে পুনরায় তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর সিআইডি মামলাটি পুনঃতদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল চার্জশিট জমা দেয়। এতে বিএনপি নেতা মকলেছুর রহমান বাবলুসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ৫২ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। আসামিদের মধ্যে পাঁচজন এরই মধ্যে মারা গেছেন।
পাবনা জজ কোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা বলেন, শেখ হাসিনার প্রাণনাশের মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ৩৮ জন সাধারণ সাক্ষী ও ৫৬ জনের সাফাই সাক্ষী শেষ হয়েছে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে। আশা করছি, আদালত তাদের বিস্ম্ফোরক আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেবেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম গ্যাদা বলেন, এ-সংক্রান্ত মামলার রায় ২০ বছর আগেই হয়েছে। সে মামলায় সবাই খালাস পেয়েছে। তাই এ ঘটনায় ন্যায়বিচার হলে সব আসামি খালাস পাবে। তিনি আরও বলেন, বাদীপক্ষ একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারেনি।
Share.

Leave A Reply