সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +
গত ৬ দিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টা এবং আজ শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ।
জানা যায়, বন্যার পানিতে জেলা শহরের ঘোলঘর, নতুনপাড়া, বণানিপাড়া, নবীনগর, কালিপুর, তেঘরিয়া, আরপিন নগর, হাছন নগর, ওয়াজখালীসহ পৌর শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
এছাড়া জেলার বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রামও প্লাবিত হয়েছে। এ সব উপজেলার বেশি ভাগ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে জেলা শহরের সাথে উপজেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে নিচু এলাকার ঘর বাড়িগুলোয়।
এদিকে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ২৩৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৯ টি উপজেলার ১২ হাজার ৮০০ বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বন্যার্তদের জন্য ৩ লক্ষ টাকা, ৩শত মেট্রিকটন চাল ও শুকনো খাবার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জেলার ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সরকারিভাবে ১০টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ সকল স্কুলকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের মধ্যে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করছে। সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষজন। কিন্তু সরকারের নিদের্শে আমার উপজেলায় যথাসাধ্য ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রান সামগ্রী দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড’র (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন, ‘বৃষ্টিপাত বন্ধ না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবতির্ত রয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সব সময় পর্যবেক্ষণ করছে।’ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোতে সরকারের নিদের্শে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
Share.

Leave A Reply