রবিবার, জুলাই ২১

শিরোনাম

বাজেটের ডকুমেন্ট পাওয়া যাবে যেসব ওয়েবসাইটে * প্রধানমন্ত্রীর বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলন কাল * বরগুনায় আগুনে দগ্ধ গৃহবধূকে ঢাকায় স্থানান্তর * মানিকগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলায় একজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম ১৭ লাখ!

0
ও ফাইনালের বেশির ভাগ টিকিট আগেই কিনে রেখেছিলেন ভারতীয়রা। সেসব টিকিট এখন চলে গেছে কালোবাজারিদের হাতে! পুনর্বিক্রি হচ্ছে ১৭ লাখ টাকায়! অর্থাৎ ৫০ গুণেরও বেশি হাঁকা হচ্ছে একেকটি টিকিটের দাম।
বেশির ভাগ টিকিট আগেই ভারতীয় সমর্থকদের দখলে থাকলেও ফাইনালেই নেই সেই ভারত। ফলে ফাইনালের টিকিটের জন্য রীতিমত হাহাকার দেখা দিয়েছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড–সমর্থকদের মধ্যে! তবে অভিযোগ উঠেছে, নিজ দল ফাইনালে না থাকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে টিকিটের কালোবাজারি করছেন ভারতীয় সমর্থকরা। কারণ, বেশির ভাগ টিকিট নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ফেরত না দিয়ে তোলা হয়েছে অননুমোদিত ওয়েবসাইটগুলোতে।
আর এরই মধ্যে স্টাবহাব নামের একটি ওয়েবসাইট কম্পটন স্ট্যান্ডের দুটি টিকিটের প্রতিটির জন্য ১৬ হাজার ৫৮৪.৮০ পাউন্ড দাম হাঁকিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৭ লাখ টাকা! যে টিকিটের প্রকৃত মূল্য ২৯৫ পাউন্ড। এখন টিকিটটি বিক্রি করার চেষ্টা চলছে ৫০ গুণেরও বেশি দামে।
শুধু এ টিকিটটাই নয়, ওয়েবসাইটটি আরও অনেক টিকিট বিক্রি করছে ৩ থেকে ৪ হাজার পাউন্ডের মধ্যে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা!
এদিকে এ টিকিটগুলোর প্রকৃত মালিক কে বা কারা, তা জানা না গেলেও অভিযোগের আঙুল ভারতীয় সমর্থকদের দিকেই। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটার জিমি নিশাম তো ভারতীয় সমর্থকদের লোভ সংবরণ করার অনুরোধ জানিয়ে টুইটও করেছেন! কিউই এ অলরাউন্ডার লিখেছেন, ‘প্রিয় ভারতীয় ক্রিকেটভক্তগণ, আপনারা যদি ফাইনাল ম্যাচে না আসতে চান, তাহলে দয়া করে আইসিসির নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাদের টিকিটগুলো বিক্রি করে দিন। আমি জানি, বড় অঙ্কের লাভ করার প্রলোভন আছে এতে। কিন্তু দয়া করে কেবল ধনীদের নয়, প্রকৃত ক্রিকেট সমর্থকদের ফাইনাল দেখার সুযোগ করে দিন।’
তবে ভার্চ্যুয়াল জগতের কালোবাজারে টিকিটের যে দর হাঁকা হচ্ছে, তা কেবল ধনীদের পক্ষেই কেনা সম্ভব। কিন্তু ফাইনালের টিকিটের যে দাম আইসিসি নির্ধারণ করেছিল, তার সর্বোচ্চ মূল্য ৩৯৫ পাউন্ড থেকে সর্বনিম্ন ৯৫ পাউন্ড ছিলো।
টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে আইসিসির নিয়মটা হলো- ব্যক্তিগতভাবে কেউ টিকিট হস্তান্তর করতে পারবে না। আইসিসির নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই তা রি-সেল করা যাবে। যার মাধ্যমে টিকিটের অধিকারী চাইলে নিজের টিকিট বৈধ প্রক্রিয়ায় অন্য কারও কাছে বিক্রি করে দিতে পারেন। এ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি টিকিট এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে।
কিন্তু ভোক্তাদের অভিযোগ, আইসিসির এ টিকিট রি-সেল প্রক্রিয়ায় নাকি অনেক ঝামেলা। প্রায় সময়ই পেজ ক্র্যাশসহ বেশ কিছু সমস্যার কারণে অনেক সমর্থক আইসিসির রি-সেল প্ল্যাটফর্মের বদলে আনঅফিশিয়াল রি-সেল সাইট ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। তবে আইসিসির দাবি, বেশি টাকার লোভেই সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের অনেক টিকিট অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে আইসিসি বেশ হুমকি-ধমকি দিয়েছে যে, এভাবে টিকিট কেনা-বেচা দুটিই বে-আইনি। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিন্তু কার্যত আইসিসি এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টিল এলওর্দি বলেছেন, যুক্তরাজ্যের প্রচলিত আইনের কারণে আইসিসি নিরুপায়। তবে যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এসব টিকিট বিক্রি হচ্ছে, দেখা মাত্রই আইসিসি সেসব অ্যাকাউন্ট বাতিল করে দিচ্ছে। এভাবে টিকিট কিনলে পকেট ফাঁকা হওয়ার পাশাপাশি মাঠে ঢুকতে না পারার ঝুঁকিও থাকছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
এমন হুমকি-ধমকি সেমিফাইনালের আগেও দিয়েছিল আইসিসি। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালেরও সিংহভাগ টিকিট ছিল ভারতীয়দের দখলে। এমনও আশঙ্কা করা হয়েছিল, গ্যালারি ফাঁকা না থেকে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্যালারি প্রায় পূর্ণই ছিল। কেননা, ওই টিকিটগুলো কোনো না কোনোভাবে হাতবদল হয়েছে। ঠিক একইভাবে হাতবদল হচ্ছে ফাইনালের টিকিটও। যে কারণেই দাম দিতে হচ্ছে এত বেশি পরিমাণে।
Share.

About Author

Leave A Reply