কুষ্টিয়ায় ঈদকে সামনে রেখে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারীরা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি \ কুষ্টিয়ার গরু মানে ঈদের পশুহাটে বাড়তি চাহিদা। আর এ চাহিদার যোগান দিতে জেলায় এবছর প্রায় ১ লাখ সাড়ে ৩৩ হাজার গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তাই শেষ মুহর্তে গরুর খামারিদের ব্যস্ততার শেষ নেই। এবারের কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে গরুর লালন পালন এবং মোটাতাজা করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের প্রহর গুনছেন খামারিরা। গতবারের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবছর গরুর খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে প্রস্তুত করছেন তাদের গরু।

গরু পালন কুষ্টিয়ার ঐতিহ্য। আর এ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এবছর জেলায় সাড়ে ১৭ হাজার খামার ও কৃষকের বাড়িতে ১ লাখ ৩৩ হাজার গরুকে মোটাতাজা বা হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কুষ্টিয়ার চাহিদা পুরণ করে প্রায় শতকরা ৭০ভাগ গরু ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন খামারী ও গরু পালনকারী কৃষকরা বলছেন, গরুর সব রকম খাদ্যে দাম বেড়েছে। তারপরও কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে পাশর্^বর্তী দেশ ভারত থেকে গরু না আসলে লাভের মুখ দেখবেন তারা। আর এবারও যদি লোকসান গুনতে হয় পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে তাদের।
আলাউদ্দিন নামে একজন গরুর খামারী জানান, গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবছর ৫০টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গরু ঢাকায় পাঠানো শুরু হয়েছে। ভারতীয় গরু আমাদানি না হলে লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় ১৭ হাজার ৫৪৩টি খামার রয়েছে। এসব খামারে ৬৫ হাজার ৭১৩টি গরু, ৭৮৯টি মহিষ, ৬৫ হাজার ৮০৩টি ছাগল এবং ১ হাজার ১৭৬টি ভেড়া ও ১০৯টি অন্যান্য পশু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। এ জেলায় মোট ১২টি পশুর হাট রয়েছে। এসব হাট ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব পশু বিক্রি করা হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে হৃষ্টপুষ্ট করায় কুষ্টিয়ার গরুর ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে গতবারের তুলনায় গরু কিছুটা কমেছে। খামারিদের গরু পালন ও বর্ষায় যাতে রোগ বালাই না হয় সেজন্য নানা পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়াও গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে যাতে অবৈধ পন্থা অবলম্বন না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। জেলার ১২টি পশু হাটে ১৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।’
জেলা প্রশাসক. আসলাম হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খামারিদের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কেউ যদি অসাধু পন্থায় গরু মোটাতাজা করার চেষ্টা করেন এমন প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Share.

Leave A Reply