পেঁয়াজ আমরা কেনো খাই?

3
পেঁয়াজ অতি পরিচিত রান্নার একটি উপকরণ। যার কদর অনেক। প্রায় সব রান্নাতেই লাগে পেঁয়াজ। কিন্তু মাঝে মধ্যে দামের কারণে এটি সংবাদের শিরোনাম হয়ে যায়। এবার সেঞ্চুরি হাকিয়ে শিরোনামে পেঁয়াজ। প্রতিবছরই কোন না কোন সময়ে দামের জন্য সবার মুখে মুখে চলে আসে পেঁয়াজ।
শুধু রান্নাবান্নার অনুষঙ্গই নয়, কাঁচা খেতেও পেঁয়াজ বেশ সুস্বাদু। এছাড়া পেঁয়াজ ভর্তা, আচার এবং সালাদ হিসেবেও খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। পেঁয়াজের রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগুণ। যার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চাহিদা রয়েছে পেঁয়াজের।
পেঁয়াজের খাদ্যগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
পুষ্টিবিদরা বলেন, পেঁয়াজ মশলা জাতীয় খাবার। এর মূল উপাদান হচ্ছে পানি, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। পেঁয়াজে পানির পরিমাণ প্রায় শতকরা ৮৫ ভাগ। এছাড়াও ভিটামিন সি, বি এবং পটাসিয়াম রয়েছে পেঁয়াজে।
* পেঁয়াজের খোসা ছাড়ালে যে গাঢ় বেগুনি রঙের একটি আস্তরণ পাওয়া যায়, তাতে রয়েছে এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ নিবারণ করে এমন উপাদানও রয়েছে পেঁয়াজে। এটি হাড়েরও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
* শরীরে পটাসিয়াম এবং মিনারেল বা খনিজের চাহিদা পূরণের একটি ভালো উৎস হলো পেঁয়াজ। এই উপাদানগুলোই পেঁয়াজে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।
* প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে পেঁয়াজে। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি এবং আয়রন পাওয়া যায় পেঁয়াজে।
* ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে অনেক বেশি যা প্রায় ১২%। পেঁয়াজের মধ্যে কোন ফ্যাট নাই।
এবার জেনে নেওয়া যাক পেঁয়াজের ঔষধি গুণ সম্পর্কে
ঐতিহাসিকভাবে পেঁয়াজের রয়েছে ঔষধি ব্যবহার। প্রাচীন আমলে কলেরা এবং প্লেগের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হতো পেঁয়াজ। রোমান সম্রাট নিরো ঠাণ্ডার ওষুধ হিসেবে পেঁয়াজ খেতেন বলেও শ্রুতি রয়েছে।
* পেঁয়াজে থাকা এলিসিন নামের উপাদান অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে।
* অনেক সময় এটি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
* হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখা। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে পেঁয়াজের ব্যবহার দেখা যায়।
* পেঁয়াজ কাঁচা খেলে সর্দি-কাশির আক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। এটা মানুষের শরীরে রোগ-প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
পেঁয়াজে যেহেতু সালফার উপাদান থাকে তাই এটি রান্নায় এক ধরনের ঝাঁজালো স্বাদ যোগ করে। তবে নিজস্ব স্বাদ যোগ করা ছাড়াও রান্নায় পেঁয়াজের সব চেয়ে বড় কাজ হচ্ছে, অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে মিলে স্বাদ বাড়িয়ে দেওয়া। বেশিক্ষণ রান্না করলে পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন নষ্ট হলেও অন্য উপাদানগুলো ঠিক থাকে।
তবে পেঁয়াজের গুনাগুণ পেতে হলে কাঁচা খাওয়ার অভ্যাস বেশি করতে হবে বলে জানান পুষ্টিবিদরা। আবার মধ্যম তাপমাত্রায় পেঁয়াজ রান্না করার পরামর্শও দেন তারাৃ
আরো পড়ুন