২২ দিনে ১৯শ জেলে আটক, ৪ জেলে নিহত

3

অনলাইন ডেক্স।।
মা ইলিশের ডিম ছাড়া নির্বিঘ্ন করতে গত ৯ই অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরা, ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ ছিলো। তবে, এসময় ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শরীয়তপুরের কয়েক হাজার জেলে মাছ ধরতে নামে।

শরীয়তপুরের জাজিরার পাইনপাড়া থেকে গোসাইরহাটের খুনেরচর পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জেলেরা মাছ ধরতে নামে। নিয়মিত জেলেদের চাইতে মৌসুমী জেলে এবং বহিরাগত জেলেদের সংখ্যাই ছিলো বেশি। এছাড়া, মাছ ধরার কাজে ইঞ্জিন চালিত নৌকার পাশাপাশি এবার স্পিডবোটও ব্যবহার করতে দেখা যায়।

এসময়, মাছ ধরার সময় দুইটি স্পিডবোটের মুখোমুখি সংঘর্ষে জাজিরার স্বপন মোল্যা (৩৫), আব্দুল মান্নান (৫৫), মুন্সীগঞ্জের বাচ্চু মাদবর (৩৫) ও ভোলার মনপুরার নিয়াজ উদ্দীন (৩৬) নিহত হয়।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরার অপরাধে শরীয়তপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে গত ২২ দিনে ১৯০২ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। যা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বাংলাদেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চল থেকে এককভাবে সর্বোচ্চ। অভাবের কারণেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরতে নদীতে নেমেছেন বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ দিনে জেলা মৎস্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ৩২৩টি অভিযান এবং ১৩৭টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি ১৮৩৮টি মামলা করা হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ মাছ ধরার অপরাধে ১৯০২ জন জেলেকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে, ১৫৪২ জন জেলেকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং বয়স ও মানবিক বিবেচনায় ৩৬০ জন জেলেকে ১৮ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময়, ৮২টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও ৪১টি স্পিডবোট জব্দ করা হয়। এছাড়া, ৭৭ লক্ষ ২০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ১২ হাজার ২৮ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩২,৩২৪ জন। এদের মধ্যে ১৬ হাজার ৩৫৫ জন জেলেকে নিষেধাজ্ঞার সময়ের জন্য ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দেয়া হয়েছে। এর বাইরে, জাটকা ধরার মৌসুমে ১২,৯৯৪ জন জেলেকে ৪ মাস ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা দেয়া হয়।

জাজিরা এলাকার জেলে শামীম বেপারি, মজিবর মিয়া ও ফিরোজ কাজী বলেন, প্রজনন মৌসুমের আগে নদীতে মাছ ছিলোনা। তখন আমরা ধার দেনা করে চলেছি। এখন প্রজনন মৌসুম শেষে মা ইলিশ আবার সাগরে ফিরে যাবে। নদীতে মাছ থাকবে না। এরপর ৪ মাস জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। তখনও ধারদেনা করে চলতে হবে। সরকার আমাদের যে সাহায্য দেয় তাতে কিছুই হয় না। বাধ্য হয়ে জেল জরিমানা উপেক্ষা করে আমরা নদীতে নেমেছি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিত বৈরাগী বলেন, মা ইলিশ ধরা বন্ধের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সর্বোচ্চ ১৯শ জেলেকে আটক করেছি। কিন্তু, বেপরোয়া ও মৌসুমী জেলেদের কারণে শতভাগ সফল হতে পারি নাই। তবে, এ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী বছর আরও সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আরো পড়ুন