বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১ .
  • ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব এক পরিবার

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

অনলাইন ডেক্স।।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীয়াবাদ গ্রামের মৃত আবদুর রউফ মিয়ার ছেলে কথিত ভূয়া এডভোকেট হাফেজ মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক আদম বেপারীর খপ্পরে পড়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকা হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে একই উপজেলার শুশুন্ডা নয়াকান্দা গ্রামের মৃত মনিরুল হক সরকারের ছেলে ফারুক মিয়া (৪২) নামের এক দিনমজুরের পরিবার।

চলতি বছরের ২৪ মার্চ কোম্পানীর ভিসা দিয়ে তাকে সৌদি নেয়া হলেও ভিসায় এক মাসের মেয়াদ থাকায় সেখানে গ্রেফতার হন তিনি। আর আদম বেপারী মোস্তাফিজুর রহমান তাকে ছাড়ানোর কথাবলে তার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে আরো লাখ খানেক টাকা হাতিয়ে নেয় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ। ঢাকাস্থ মালিবাগের আল মোস্তাফিজ ট্রাভেলস এজেন্সির মাধ্যমে তার সাথে উক্ত প্রতারণা করা হয়েছে বলেও ভুক্তভোগী ফারুক মিয়া দাবি করে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার ফারুক মিয়া মঙ্গলবার দুপুরে ওই আদম বেপারী মোস্তাফিজুর রহমানের কর্মস্থল উপজেলার কাজিয়াতল (দ.) পাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এসে কান্না জড়িত কন্ঠে জানায়, ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণামূলক ভিসা দিয়ে আমাকে সৌদি আরব নেয় কাজিয়াতল দাখিল মাদ্রাসার সুপার আদম বেপারী মোস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি মরুভূমিতে মাজরার কাজ করলেও ভিসার মেয়াদ একমাস হওয়ায় সৌদি পুলিশ গ্রেফতার করে তাকে। আর গ্রেফতারের খবর আদম বেপারী মোস্তাফিজুর ভুক্তভোগী ফারুক মিয়ার পরিবারকে জানিয়ে সেখান থেকে মুক্ত করার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আরো লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু এরপরও তাকে মুক্ত না করায় ফারুকের পরিবার অন্য একটি মাধ্যমে আরো ৭০ হাজার টাকা খরচ করে ৬ মাস পরে তাকে মুক্ত করে দেশে নিয়ে আসে। আর সৌদির জেলে থেকে ফারুক চরমভাবে শারীরিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী ফারুক অভিযোগ করে আরো বলেন, আমার মতো অনেক বেকার যুবকদের সাথে এভাবে আদম বেপারী মোস্তাফিজুর রহমান ও তাদের প্রতিষ্ঠান আল মোস্তাফিজ ট্রাভেলস এজেন্সি প্রতারণা করে যাচ্ছে। তাদের খপ্পরে পড়ে আজ আমার পরিবার সর্বস্বান্ত। আমি এর ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবি করি।

উল্লেখ্য; আলোচিত ওই আদম বেপারী উপজেলার কাজিয়াতল (দ.) পাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ভূয়া ও অসত্য তথ্যে বছর খানেক আগে সুপার পদে চাকুরী নিয়ে দাপটের সহিত মাদ্রাসার উন্নয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়মিত মাদরাসায় না এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেন স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক কর্মচারীরা। পরে তোপের মুখে গত ১২ অক্টোবর দুপুরে প্রতিষ্ঠানের মূল কাগজ পত্র ও ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে ওই সুপার পালিয়ে যায়। এ নিয়ে এ আদম বেপারী মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ মুরাদনগর থানার একটি সাধারণ ডায়ইরি করে (যার নং ৪৯৬, তাং ১৩/১০/১৯ইং)। গত ১৯ অক্টোবর শনিবার মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সুপার মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠানের গুরত্বপূর্ন কাগজপত্র, নগদ অর্থ নিয়ে পলাতক থাকাসহ, বিভিন্ন অনিয়ম ও পলাতক থাকার বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। মাদরাসার সুপার আদম বেপারী মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগসহ টাকা ও নথি চুরি করে দীর্ঘ দিন ধরে পলাতক থাকায় অবশেষে গত ৩১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দ:বি: ৩৮১ ধারায় আদালতে একটি মামলাও হয়েছে। কুমিল্লার ৮নং আমলি আদালতের বিচারক ইরফানুল হক চৌধুরী মামলাটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা বিভাগ ডিবির ওসিকে এ মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে আদম বেপারী মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে প্রবাস ফেরত ফারুক মিয়াকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা সত্যতা স্বীকার বলেন, প্রবাস ফেরত যুবকদরে বর্তমান অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়।

Share.

Leave A Reply