বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১ .
  • ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বুড়িচংয়ে বেপরোয়া সিন্ডিকেট: গোমতীর বালু লুটে প্রতিবাদ করলেই প্রাণনাশের হুমকি

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

; অপরিকল্পিত খননে বিলীন ফসলি জমি, ১৫ কিলোমিটারের ১০ স্পটে ভাঙন

০৯ নভেম্বর ২০১৯,

‌গোমতী থেকে বালু লুট করা হচ্ছে।ফাইল ছবি

বুড়িচং উপজেলায় গোমতী নদীর বালু অবাধে লুট করা হচ্ছে। প্রায় ১০টি স্পট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং অপরিকল্পিত খননে নদীতে প্রতিনিয়ত ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করলে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের হোতারা প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

জেলা প্রশাসনের এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ইজারা না দিয়ে উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া, মিরপুর, পূর্বহুড়া ও কাহেতড়ার পশ্চিম অংশসহ আশপাশের প্রায় ১০টি স্পটের ১৫ কিলোমিটার নদীর অংশ এবং পার থেকে দেদার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এদিকে, ইজারা ছাড়া প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মাঝে-মধ্যে প্রশাসন লোক দেখানো অভিযান চালায়। এতে ড্রেজারের দু-একটি পাইপ ভাংচুর ছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়া না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, বুড়িচং উপজেলার কংসনগর, গোবিন্দপুর এবং মিরপুর এলাকার তিনটি স্পট থেকে বালু উত্তোলন করতে জেলা প্রশাসনের এসএ শাখা থেকে ১৪২৫ সালের (বাংলা) জন্য এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ইজারা দেয়া হয়। ওই বছর ইজারা দেয়ার পর নির্দিষ্ট মাপের পাইপ এবং মেশিন দিয়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে মনিটরিং করা হয়। কিন্তু ১৪২৬ সালের (বাংলা) জন্য ইজারা আহ্বান করা হলে আগের বারের চেয়ে অনেক কম মূল্যে ইজারার দরপত্র দাখিল করা হয়। বারবার ইজারা আহ্বান করার পরও কমমূল্য পাওয়ায় জেলা প্রশাসন ইজারা দেয়নি। তবে ইজারা না নিয়েই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভেকু, ড্রেজার, ট্রলার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। ড্রাম ট্রাক, লরি ও ট্রাক্টটরের মাধ্যমে তারা বালু লুট করছে। এছাড়া অপরিকল্পিত খননে নদী পারের ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ বাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে। উপজেলার বাগিলারা ও কাঁঠালিয়া এলাকায় ২৪-২৫ ডায়ার পাইপ দিয়ে দেদার বালু উত্তোলন করায় কৃষি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং জমি বিলীনের বিষয়টি ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। প্রশাসনও মাঝে-মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে দায় সারছে।

উপজেলার পূর্বহুরা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এ ব্যাপারে নদী রক্ষা কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। নদী পারের কৃষিজমি কেটে নেয়া হচ্ছে। এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হলেও সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করতে গেলেই হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সেসব জমিতে আগে সবজি চাষ করে লাখ লাখ টাকা আয় করা হতো সে সব জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে লাশ হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরুল হাসান জানান, অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসছি। তাদের ড্রেজার ধ্বংস করাসহ মালামাল জব্দ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।)

সূত্র- যুগান্তর।

Share.

Leave A Reply