অবশেষে গেন্দা ফুল গানের গীতিকারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন গায়ক বাদশা

অনলাইন ডেস্ক।।

22
‘বড় লোকের বেটি লো’ গান দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বলিউডের র‌্যাপার বাদশাহ। এই গান তার জনপ্রিয়তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গানটি নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখেও পড়েছেন এ র‌্যাপার। কারণ ‘বড়লোকের বিটি লো’ গানটিকে আশ্রয় করে ‘গেন্দা ফুল’ শিরোনামে র‌্যাপ গানটি তৈরি করেছেন বাদশাহ। কিন্তু গানের কোথাও দেখা যায়নি মূল গীতিকার রতন কাহারের নাম। এ বিষয়টি রীতিমত ভাইরাল হয়ে যায়।
গানটির কথা নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন প্রথমে। পরে সমালোচনার মুখে পড়ে সেটি পরিবর্তন করে বাদশা লিখে দেন ‘বেঙ্গলি ফোক’। তবুও যার গান তার অনুমতি ছাড়া কেন ব্যবহার করা হলো সেটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।
এই জনপ্রিয় গান দিয়ে গায়ক বাদশাহ, মডেল জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সনি মিউজিক ইন্ডিয়া অনেক টাকা ঘরে তুলেছেন। কিন্তু গানের গীতিকার বৃদ্ধ রতন কাহার না খেয়ে দিন পার করেন। এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ভারতের গণমাধ্যমে উঠে আসে।
সেই প্রেক্ষিতে অবশেষে মুখ খুলেছেন গায়ক বাদশাহ। নিজের ইন্সটাগ্রামের একটি পোস্টে তিনি জানান, এই গান রতন কাহারের তিনি জানতেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি ওই গান রচয়িতার নাম খোঁজার চেষ্টা করেছি কিন্তু খুঁজে পাইনি। ২৬ মার্চ আমি জেনেছি, রতন কাহারের নাম। আমি জানি উনি একজন মহান শিল্পী। শুনেছি উনার অর্থনৈতিক অবস্থাও ভালো নয়। আমি উনাকে সম্মান দিয়ে সাহায্য করতে চাই।’
বাদশা আলাদা করে ধন্যবাদ দিয়েছেন বাঙালি দর্শকদের যারা তার এই গান পছন্দ করেছেন। তিনি বলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে বহু লোক তিরস্কার করেছেন ‘চোর’ বলে। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন শিল্পী হিসেবে তিনি অন্য শিল্পীকে সম্মান করতেই শিখেছেন।
‘আমাকে চোর বলবেন না। লকডাউন না থাকলে আমি আজই রতন কাহারের বাড়ি চলে যেতাম। আমি তার সাথে যোগাযোগ করতে চাই। গুণী রতন কাহারকে যে কোনোরকম সাহায্য করতে আমি প্রস্তুত’- যোগ করেন বাদশাহ।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে রতন কাহার গানটি লিখেছিলেন। তার পরে ১৯৭৬ সালে অশোক রেকর্ড কোম্পানির উদ্যোগে স্বপ্না চক্রবর্তীতে গানটি রেকর্ড হয়। এক কুমারী মায়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল রতনের, তার কাছ থেকেই এই গান লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে পাহাড়ি সান্যালের উদ্যোগে আকাশবাণীতেও গান করেছেন সেই বিস্মৃতপ্রায় শিল্পী।
আরো পড়ুনঃ