আবারো ঘুরে দাড়াতে চাইছেন মেয়র হিমেল- চৌগাছা পৌর নির্বাচনে

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)

60

যশোর জেলারসদর,নোয়াপাড়া,মনিরামপুর,বাঘারপাড়া, কেশবপুর আর চৌগাছা পৌরসভার নির্বাচন ডিসেম্বরেই সম্ভাবনা বেশী। এ বিষয়ে স্থানীয় মাঠ প্রশাসনকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে এবার ব্যালটে নয়-ইভিএম পদ্ধতিতে। ২০০৪ সালে চৌগাছা পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার পরে ২ মেয়াদে সেলিম রেজা আওলিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এর আগে ২০০৪ এর মার্চ মাসের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। আর তখন বিএনপির সেলিম রেজা প্রশাসক ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৫ তে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে মো. নুর উদ্দীন আল-মামুন (হিমেল) দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আজ অব্দি বহাল রয়েছেন। বতর্মান মেয়র হিমেল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি তথা- আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা-আমার পলেটিক্যাল ক্যারিয়ার ও নিকট অতীতের কর্মকান্ড আর এলাকার জনগনের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে-ইনশাল্লাহ আমাকে দলীয় ভাবে পূনরায় নমিনেটেড করবেনবলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসের উপর ভর করে আগামী পৌরনির্বাচনের জন্য প্রস্ততি নিচ্ছি।

গতবারের মতো এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে। মেয়র এইচ.এস.সি. পাশ হতে হবে ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এস.এস.সি. পাশ হতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর ছড়ালেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতা মূলক নয় এখন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে মাত্র। সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আর সেইআলোকে দেশে বর্তমানে ৩২৮টি পৌরসভা রয়েছে। এরমধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটহয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভা গুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশিরভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। এবার ৫ধাপে তারাই থাকছেন ।

মো. নুর উদ্দীন আল-মামুন (হিমেল) পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ভোটার। বেড়ে উঠেছেন এই জনপদে। পড়াশোনা এখানেই শুরু। যশোর সরকারি কলেজ থেকে বিএ (অর্নাস) শেষ করেছেন। পারিবারিক ও ব্যবসাযিক কারণে উচ্চ শিক্ষায় যেতে পরেন নি। ছাত্রঅবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধু আদর্শের দল- বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। ১৯৯৮-২০০৪ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন।২০০৫-২০১৭ পর্যন্ত থানা যুবলীগের নির্বাহী সদস্য।২০১৫-১৬তে উপজেলা যুবলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। আর বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের নির্বাহী সদস্য। সারাজীবন স্বচ্ছতারমধ্য দিয়ে আওয়ামীঘরনার রাজনীতি করে আসছেন। তিনি বলেন, চৌগাছা এমনিতেই জামাত-বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। সেই দাপটের মাঝে আমরা ঘুড়ে দাড়িয়েছি। মেয়র বলেন একটি প্রথম শ্রেনীর উপজেলা ভিত্তিক পৌরসভার উন্নয়নে সকল প্রতিকূলতার মধ্যে একে নান্দনিক করে তুলতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এলাকার মানুষদের নিম্মতম চাহিদা পূরণে এখানকার ড্রেনেজসিস্টেম পুর্নবিন্যাশ করা হয়েছে, শুরুতে ১৬৮টি ষ্ট্রিটলাইট ছিলো আর এখন হাজারের উর্ধে। নদীর ওপরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এর মাধ্যমে সুপেয়পানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে।পাশাপাশি একটি ওভারহেড ট্যান্ক নির্মাণ করা হচ্ছে বাজেট আর বরাদ্দের উপর নির্ভর করে। আর এতে আমার স্থানীয় এমপি মেজর জেনারেল (অব) ডা. নাসির উদ্দীনের দিক নির্দেশনায় আর পৃষ্টপোষকতার মধ্য থেকেই আমি জনগণের সেবা করে আসছি দীর্ঘ ৫টি বছর। এখানে কোন অনিয়মের খবর নেই। আগামীতে নির্বাচিত হলে চৌগাছা পৌরসভাকে একটি নিরাপদ- বাসযোগ্য মাঝারি অবকাঠোমো সমৃদ্ধ জনপদ নির্মাণে প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে। হিমেল বলেন,সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হলে এখানকার যেকোনো প্রার্থীকে ডিঙিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারবো ইনশাল্লাহ। আর নির্বাচিত হলে এখানকার পুঞ্জীভূত সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে চৌগাছা পৌরসভাকে ঢেলে সাজাবো।

এতোসব উন্নয়ন কাজের জন্য ৯টি ওয়ার্ডের ১৮হাজার ভোটার পুনরায় তাকে মেন্ডেট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে অনেকের প্রতাশা। এদিকে দলীয়ভাবে আরো দুইজন মেয়র প্রার্থী রয়েছেন, সাইফুর রহমান আর জসিম উদ্দীন । এর আগে দুইবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে সফল হতে পারেন নি সাইফুর রহমান। সাবেক পুলিশ কর্মর্কতা জসিম উদ্দীন- হালে নৌকার উপর ভর করেছেন । অতীতের রাজনীতিতে সরব ছিলেন না কোনদিন ও। জনগনের কাছে তারা প্রশ্নবিদ্ব। আর বিএনপি থেকে সেলিম রেজা সহ জামাতের একজন প্রার্থী রয়েছেন।
এদিকে হিমেল নির্বাচিত হওয়ার পর চৌগাছাতে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠন গুলো আরো বেগবান হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রভাবের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তিনি কোন প্রকার পিপিই ছাড়াই অনেক লাশ বহন করে কবরস্থ করেছেন। পাশাপাশি সরকারি ত্রান ছাড়াও ব্যক্তিগত ভাবে সহায়তা প্রদান করে নন্দিত হয়ে আছেন এলাকাতে। আগে পৌর এলাকার ময়লা-আর্বজনা কপোতাক্ষ নদে ফেলে পরিবেশ বিঘিœত করেছে। আগামীতে ড্যাম্পিং স্টেশন নির্মাণের মধ্যদিয়ে চৌগাছার পরিবেশ আরো নান্দনিক করে তুলতে চান তিনি। এসব বিষয়ে সবসময় এলাকার মাননীয় এমপি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।এদিকে মেয়র হিমেল বলেন, এলাকার দুঃস্থ মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে আমার পৌরসভার ইপিআই কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে। সবকিছুই হবে পৌরসভার বাজেট আর বরাদ্দের উপর নির্ভর করে। আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমি যতটুকু পারি জনগনের পাশে থাকবো। অতীতে যেমন তাদের সুখে দুঃখে ছিলাম, এখনও আছি। তিনিবলেন, মাদক সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ উন্নয়নের বাধাগ্রস্ত হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমি অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি আর এসব বিষয়ে আমাকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন আমার স্থানীয় সাংসদ ও জেলার সিনিয়র নেতাকর্মীরা।

মো. নুর উদ্দীন আল-মামুন (হিমেল) এর বাবা মরহুম ওয়াজি উল্লাহ একজন সরকারি কর্মর্কতা ছিলেন। তার অন্য চাচারা আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতেন বলে- বিএনপি আর জাতীয়পাটির আমলে বহু হামলা-মামলার শিকার হয়ে নির্যাতিত হয়েছেন । চৌগাছা সরকারি কলেজটি তাদের ৬বিঘার পৈতৃক সম্পত্তির উপর নির্মাণ করা। পরিশেষে হিমেল বলেন, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আওয়ামীঘরোনার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ।দলের সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতির বানিজ্য করিনি । আমি কোন গ্রুপিং এর রাজনীতি করি না। কাউকে করতেও উৎসাহ দেই না । আমর শুধু একটাই গ্রুপ- জন নেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি ।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!