আমপালে নিজের ত্রাণ নিজেই তুলে নিলেন কর্মহীন মানুষজন

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর।।

28
যেখানে খাদ্য সামগ্রী দিতে কিংবা নিতে হুড়োহুড়ি থাকে সেখানে ত্রাণ বিতরনে উদাহরণ সৃষ্টি করলো আমপাল হাজী রসুলী সরকার ফাউন্ডেশন। নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন এক ভিন্ন পরিবেশে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সব কাজে যেখানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে অনেকই ত্রাণ দিচ্ছেন লোক সমাগম করে। যাতে সংক্রমনের ঝুঁকিও বাড়ছে। যার বিপরীতে আমপাল হাজী রসুলী সরকার ফাউন্ডেশন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।
করোনার কারনে ক্ষতিগ্রস্থ দু’শতাধিক হতদরিদ্র ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা করেছে আমপাল হাজী রসুলী সরকার ফাউন্ডেশন নামক একটি সামাজিক সংগঠন। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের আমপাল হাজী রসুলী সরকারের বাড়ির রাস্তার দু’পাশে দূরত্ব বজায় রেখে সারি সারি করে রাখা হয় করোনায় কর্মহীন মানুষদের জন্য ত্রাণের পেকেট। এ সময় লগডাউনে বেকার হয়ে যাওয়া চা বিক্রেতাসহ হতদরিদ্ররা বাড়ীর পাশের রাস্তায় রক্ষিত তাদের ত্রাণ সামগ্রী নিজেরাই তুলে নেয়।
ত্রাণ সহায়তায় আমপাল হাজী রসুলী সরকার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রতি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার তেল, লবন ও সাবান দেওয়া হয়েছে। এ সময় সংগঠন সদস্যদের মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সি.এ ইকবাল হোসেন, তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম শাহেদ, ছালিয়াকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল সরকার, সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ সরকার, স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলাম, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী সরকার, সমাজ সেবক পারভেজ সরকার, আল আমীন সরকার ও আমপাল পূর্ব পাড়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন প্রমূখ।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরী ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কুদ্দুস মিয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ক্রমান্বয়ে এ কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানায় আয়োজকরা।
আমপাল হাজী রসুলী সরকার ফাউন্ডেশনের সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সি.এ ইকবাল হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদে চাকুরী করার সুবাদে ত্রাণ বিতরণে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ভিন্ন ধরণের এই পদ্ধতি অবলম্বন করা। সরকার ও নিয়মানুযায়ী ত্রাণ বিতরণে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার কথা বললেও আমরা তা মানছিনা। আমরা দু’জনকে হাতে তুলে দিয়ে বাকীদের জন্য সারিবদ্ধ ভাবে ত্রাণ রাখা হয়েছে, যার যার মতো নিয়ে চলে গেছে।
আরো পড়ুনঃ