আমরা ইয়ং আমাদের কাছে করোনা আসতে পারবেনা!

সালাহউদ্দিন বকুল, হিলি প্রতিনিধি।।

12

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে দিন দিন করোনার সংক্রামনের হার বাড়ছে। তাই করোনার সংক্রামন রোধে প্রশাসনের নির্দেশে চলছে সাতদিনের কঠোর বিধি নিষেধ। এদিকে কঠোর বিধি নিষেধ জারি থাকলেও অনেক মানুষজন মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই।

রবিবার ৬ষ্ঠ দিনের মতো চলছে এই কঠোর বিধি নিষেধ। করোনার সংক্রামন বেড়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার ১৫জুন সকাল ৬টা থেকে হিলিতে এই কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করে উপজেলা প্রশাসন। যা আগামী ২২জুন মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এই কঠোর বিধি নিষেধ চলবে।

সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কঠোর বিধি নিষেধ চললেও বাজারে কোন প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। মানুষজন আগের মতোই চলাফেরা করছেন অনেক ক্রেতা বিক্রেতার মুখেই দেখা মেলেনি মাস্কের, কেউ কেউ মাস্ক পড়লেও তা থুতনিতে ও কানের সাথে ঝুলিয়ে রাখছেন।

দোকানগুলোতে গাদাগাদি করে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই নেই। তবে নির্ধারীত সময় বিকেল ৪টার পরে ওষধের দোকান ব্যাতিত অধিকাংশ দোকানগুলো যথারীতি বন্ধ হয়ে যায়।

একইভাবে হোটেলগুলোতে বসে খাবার পরিবেশন বন্ধ হয়ে পার্সেল খাবার বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুদেশের মাঝে আমদানি রফতানি বানিজ্য চালু রয়েছে।

হিলি বাজারের এক প্রসাধনি দোকানের সেলসম্যান রফিক হোসেন বলেন, আমরা ইয়ং মানুষ আমাদের কাছে করোনা আসতে পারবেনা। তারপরে অন্যান্য এলাকার চাইতে আমাদের এলাকা করোনার দিক থেকে অনেক ভালো সবাই সেফটিতে থাকে।

আমাদের এদিকে করোনা বলতে কিছু নেই করোনা আমরা ওতটা মানিনা।মাস্ক পড়ে থাকলে আমাদের গরম লাগে। কথা বলতে সমস্যা হয়, মাস্ক পড়ে কাস্টমারদের সহিত যখন কথা বলি তখন কথা স্পষ্ট হয়না।

হিলি বাজারের পোশাক বিক্রেতা নাসিরুল ইসলাম বলেন, হিলিতে করোনা রোধে সাতদিনের কঠোর বিধি নিষেধ চলছে, কিন্তু আমরা কিভাবে বিধি নিষেধ পালন করবো। দেখা যাচ্ছে দোকানে ক্রেতা আসছে দুথেকে চারজন করে তখন তাদের সাথে অনেক কথা বলতে হচ্ছে মাস্ক থাকার কারনে কথা ঠিকমতো শুনতে পারছেনা বা বুঝতে পারছেনা তাই তখন বাধ্য হয়ে মাস্ক খুলে হয়তো গলায় রাখছি।

বাজারে পণ্য কিনতে আসা ইলিয়াস হোসেন বলেন, করোনা সংক্রামন বেড়ে যাওয়ায় হিলিতে সাতদিনের কঠোর বিধি নিষেধ চলছে। কিন্তু বাজারে মানুষজনের এবিষয়ে কোন খেয়াল নেই। মানুষজন বাজারে ঘোরাফেরা করছেন মাস্ক ছাড়াই, কেউ কেউ পরলেও তা থুতনিতে নামিয়ে রাখছেন।

আবার কেউবা মাস্ক পড়ছে প্রশাসনকে দেখে, প্রশাসন চলে গেলে আবার মাস্ক খুলে রাখছেন। আমরা মাস্ক পড়ে ঘুরলে কিহবে বাজারে যেভাবে মানুষজন মাস্ক ছাড়া চলাচল করছে তাতে করে আমরাও শংকার মধ্যে রয়েছি।

এভাবে তো করোনার সংক্রামন রোধ করা সম্ভব না এতে করে করোনার সংক্রামন আরো বাড়বে। তাই সকলের উচিৎ যে কঠোর বিধি নিষেধ জারী রয়েছে সেগুলো মেনে চলতে হবে ও মাস্ক পরিধান করে চলতে তবেই করোনার সংক্রামন রোধ করা সম্ভব।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে দিন দিন করোনার সংক্রামন বাড়ছে। একারনে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিন্ধান্ত মোতাবেক সাতদিনের কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে যা চলমান রয়েছে।

সেই বিধি নিষেধগুলা মানুষজন ঠিকমতো পালন করছে কিনা ও স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক ব্যবহার করছে কিনা তা দেখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসময় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ও মাস্ক না পড়ায় অনেককে জরিমানা করা হচ্ছে। করোনার সংক্রামন রোধে এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!