আশ্রয়ণ প্রকল্প উপলব্ধি: বাঁধায় শাণিত চেতনা………. শ্রীমঙ্গলে ভূমিহীনদের স্বপূরণে গল্প

29

মো.জহিরুল ইসলাম. মৌলভীবাজার থেকে :দৃপ্ত গৌরবে দাঁড়িয়ে সবুজ পাহাড়ের বুকে সারি সারি ঘর, সাদা আর লাল-সবুজের স্বপ্ন। হত দরিদ্র মানুষের লালিত স্বপ্ন পূরনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার আশ্রয়ন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন।

আশ্রয়ণ প্রকল্প স্বপ্ন পূরণ নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম ভিডিও বার্তাতে বলেন,

যাদের কিছুই ছিল না ভূমিহীন ছিন্নমূল মানুষ,তাদের কে ভূমি এবং একই সাথে গৃহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেওয়ার যে মহৎ উদ্যাগে গ্রহণ নিয়েছেন তিনি এই উদ্যোগে আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬০০ জন গৃহীনকে ভূমি লিখে দেওয়া হয়েছে এবং গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে ।একাজটি করতে গিয়ে আমাদের জনপ্রতিনিধি , এসিল্যান্ড, টিআইও আমাদের সরকারী কর্মকর্তা সহ আমরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়েছি। আমরা ইন্টারভিউ ও যাচাই বাচাই করেছি ।সে প্রকৃত ভূমিহীন কিনা তার গৃহ আছে কিনা । জায়গা নিবার্চন করতে গিয়ে আমাদের যেটা হয়েছে। খাস জায়গার জবর দখলকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করতে অনেক বাঁধা অতিক্রম করতে হয়েছে ।এবং উদ্ধার করা নিয়ে আমরা সকলের সহযোগীতা পেয়েছি । সর্বমহলের মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে । বিভিন্নজন বিভিন্ন আঙ্গিকে পাশে থেকে।

মুজিব বর্ষে কাজ তো বটেই আশ্রয়ন প্রকল্পটি সারা পৃথিবীজুড়ে বড় কাজ এক নজিবিহীন ইতিহাস।আমরা যারা এটিতে অংশগ্রহণ করতে পেয়েছি আমরা সবাই লাকী। এই সময়ে অংশীদার হতে আমরা ইতিহাসের স্বাক্ষীহতে পেরেছি । এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কৃতঞ্চতা প্রকাশ করছি ।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম আশ্রায়ন প্রকল্প নিয়ে ওনার ব্যাক্তিগত Nazrul Islam ফেইজবুক আইডির তে এক অনুভূতি প্রকাশ করেন ।

Nazrul Islam ফেইজবুক আইডির পোষ্টটি হুবুহু তুলে ধরা হল,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প নিয়ে তিলকে তাল বানানো অপপ্রচারে গত কয়েকদিন খুব বিমর্ষ ছিলাম। একজন নবীন কর্মকর্তা হিসেবেতো আমাদের আবেগের সবটুকু দিয়েই আমরা দিনরাত পরিশ্রম করেছি হতদরিদ্র মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে। জাতির পিতাকে অন্তরে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে সাথী করেইতো গাঁথা হয়েছে প্রতিটি ইট পরম মমতার বুননে! অতিবৃষ্টি হয়তো ভাসিয়েছে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৩১৮ টি ঘরের মাত্র ৩০০টি ঘরের সামান্য অংশ; তাতো মেরামতও হয়েছে এবং হচ্ছে। দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ অংশের ক্ষতিতে কি ভেসে যাবে বাংলাদেশের স্বপ্ন-শত মানুষের ভালোবাসার শ্রম? এতই কী ঠুনকো সবকিছু। আমরা জানি, আমাদের এগিয়ে যাওয়ার স্মারক যা-কিছু, যা কিছু আমাদের অহংকারের নিশাণ তাকে গোড়াতেই ছিন্ন করে দিতে অপপ্রচার আর অপপ্রয়াসের ঘাটতি হয়নি কখনো- সেই পদ্মা সেতু থেকে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ হয়ে এই ছিন্নমুলের আশ্রয়- আশ্রয়ন প্রকল্প পর্যন্ত। বহু দিনের চেনা পুরণো চক্রান্তজীবিদের তো চিনি; তাদের ষড়যন্ত্রের ছকও পরিচিত!! কিন্তু, নিজেদের যারা, যাদের সাথে পেশার রাখিবন্ধন, চেতনার শ্লোগানে যারা উদ্দীপ্ত বলে দাবি করে অহর্ণিশ- তারা কেন তাল মেলালো এই অপপ্রয়াসের ষড়যন্ত্রে?

এসব ভাবনায় গুমরে থাকা বিমর্ষ মনকে আলোর ঝলকানিতে আজ উদ্ভাসিত করেছে ভিডিও কনফারেন্সিং-এ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আর সচিব স্যারের বক্তব্য। তাইতো, আমরা কেন সামান্য ধাক্কায় নূয়ে পড়বো? জাতির পিতার স্বপ্ন পুরনের তো এখনো ঢের বাকি; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের সানুদেশ- একুশ শ’ সালের বাংলাদেশতো আমাদেরই গড়তে হবে! শত বাধা পেরিয়েইতো আমাদের যাত্রা।

এ ক্লান্তিহীন যাত্রায় আমরা আরো সতর্ক হবো; আরো যত্নবান হবো-মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি স্বপ্ন বুননে। আর জানিয়ে রাখি, অপপ্রচার আর ষড়যন্ত্রের আঘাতে আমরা নূয়ে পড়বো না কখনো, বরং তা আমাদের চেতনাকে আরো শাণিত করবে।

ভিডিও কনফারেন্সিং শেষে আজ পুণর্বার মুজিববর্ষের এই শপথ নিয়েই কর্মস্থলে ফিরেছি।

বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রনিধি Dipankar Bhattacharjee Liton, Nazrul Islam এর ফেইজবুক আইডির পোষ্টটিতে মন্তব্য করে বলেন,

ভাল কাজে বাঁধা আগেও ছিল এখনো আছে। আর ভবিষ্যতেও থাকবে। শত বাঁধা পেরিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, এগিয়ে নিতে হবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে। আমাদের অতিত কখোনই কুসুমান্বিত ছিল না। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ, সংগ্রাম করেই আমাদের এগুতে হয়েছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আবারো হুচট খেতে হয়েছে ৭৫ এ। জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করে দেশের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নে বাঁধা হয়ে দাড়ায় দেশ বিরোধী চক্র। কিন্ত ৯৬ সালে জাতির জনকের কন্যা আবারো এ দেশের হাল ধরেন। একের পর এক বাস্তবায়ন করেন পিতার স্বপ্ন। ২০১০ থেকে ২০২১ একটানা এই দেশের নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যান বিশ্ব দরবারে সম্মানের আসনে। এই সময়েও অনেক বাঁধা এসেছে, অনেক চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু কোন বাঁধা কোন চক্রান্ত দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে দমাতে পারেনি। আর ভবিষ্যতেও পারবে না। আজ নতুন প্রজন্ম জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃর প্রতিজ্ঞা বদ্ধ। তারা অন্তরে লালন করে স্বাধীনতার চেতনা। তারা প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখে নতুন সূর্যোদয়ের। জয় বাংলা।

এদিকে Sakhawat Limon নামে একজন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম কে কৃতজ্ঞা জানিয়ে তার ফেইজবুক আইডিতে পোষ্ট করেন :
আমরা কৃতজ্ঞ শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলামের প্রতি। যার নিরলস প্রচেষ্ঠায় অসহায় এতগুলো দরিদ্র মানুষ স্বপ্নের মজবুদ ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন। এ প্রচেষ্টায় নিরাশ্রয় এসব পরিবারগুলো আজ ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মেহমান’ এর মর্যাদা লাভ করেছেন।
আমরান গর্ব করে বলতে পারি দেশে অনেক স্থানে আশ্রয়ন প্রকল্পে নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও শ্রীমঙ্গলের আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ নিয়ে কোন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি। সংবাদ সংগ্রহে আমরা কয়েকজন সংবাদকর্মী গত ৯ ও ১১ জুলাই উপজেলার বেগুনবাড়ি ও রাধানগর এলাকার প্রকল্প পরিদর্শন করি। সেখানে দেখা যায় গরু ছাগল পালন , নারী শিশুদের কোলাহলে মুখরিত নতুন এই বসতিতে। ইলেকট্রিক লাইন ও পানির ডিপ টিউবওয়েল বসানোর জোরে সোরে কাজ করছেন মিস্ত্রিরা। ইলেকট্রিক মিস্ত্রিরা ঘরের দেয়াল ছিদ্র করে বিদ্যুৎ এর ওয়্যারিং কাজে ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সেখানকার বসবাসকারীদের সাথে কথা বলি। সবাই খুব খুশি। প্রকল্পের সবগুলি ঘর পরিদর্শন করে কোন ফাটল, মেঝে দেবে যাওয়া, দেয়ালের আস্তরণ খসে যাওয়ার কোন আলামত পরিলক্ষিত হয়নি।

Reon Ahmed মন্তব্য করে বলেন,

মুখোশধারী,তথাকথিত সুশীলরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার লেবাস পড়ে আছে আমাদের সমাজে তারা কখনোই চায়নি বাংলাদেশ সৃষ্টি হোক,ওরা পাকিস্তানিদের ধূসর,

অতীতেও আমরা দেখেছি জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে বিতর্কিত করার জন্য বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভিন্নভাবেপাঁয়তারা করেছে কিন্তু তারা সফল হয়নি আর হবেও না,তার একটি মাত্র কারণ এখনও সৃষ্টিশীল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষরা বেঁচে আছেন যাদের হৃদয় জুড়ে শুধুই বাংলাদেশ,তাদের মধ্যে আমার দেখা একজন হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যার সততা মেধা দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যা বিগত দিনে বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে,এবং প্রধানমন্ত্রীও যার কর্মে খুশী। আর আজ যে বা যারাই আপনার শ্রম মেধা ও সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাচ্ছে আমি মনে করি তারা প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে বাধা দিচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের কর্মকান্ড কে বিতর্কিত করতে চাচ্ছে । তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমার অনুরোধ রইলো।এবং সেসব জারজ দের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই।

একজন নজরুল ইসলামকে সৃষ্টি করা কঠিন। ধ্বংস করা সহজ। তাই তোমরা সৃষ্টিকে ধ্বংস করো না, না হলে সৃষ্টি তোমাদেরকে একদিন পদতলে পিষ্ট করে ধ্বংস করে ফেলবে। পরিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারনকারী একজন সৃষ্টিশীল নজরুল ইসলামের দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

এদিকে আশ্রযণ প্রকল্প নিয়ে হাতে গুণা দু একজন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তা নিয়ে শ্রীমঙ্গলে প্রবীন ও নবীন সাংবাদিকরা ঘর গুলো পরিদর্শন করেছেন । তারা কোন দুর্নীর্তির চিত্র চিত্র খোঁজে পাননি এটি অপপ্রচার ছাড়া আর কোন কিছু না ।

প্রকল্পর নতুন বাসিন্দারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মাননীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহিদ, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান,বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!