আ.লীগ নেতাদের অভিযোগ, গোপন সমঝোতায় মীর্জা কাদের আ.লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে বাজে বকছে

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি।।

74

ফেনীর আ.লীগ নেতারা বলেছেন লন্ডনে পালিয়ে থাকা বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাথে গোপন সমঝোতার কারণে বসুর হাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মীর্জা আ.লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আবোল তাবোল বকছে। আবদুল কাদের মীর্জা বসুর হাট পৌরসভা নির্বাচনের পূর্বে আমেরিকায় গিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় লন্ডনে পালিয়ে থাকা বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সাথে ভার্চুয়াল মাধ্যমে গোপন সমঝোতায় মিলিত হন।

তিনি বিএনপি জামায়াতের ভোট নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হতে নানা নীতি কথা শুনিয়েছেন। তিনি এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মওদুদ আহমদের অনুপস্থিতিতে তিনি বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার সমঝোতা করেছেন। আমেরিকার জেকসনের একটি হোটেলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন তথাকথিত আ.লীগ নেতা দাবিদার মীর্জা কাদের।

সে বিএনপি-জামায়াতের সোল এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। যে কথাগুলো বিএনপির মীর্জা ফখরুল ইসলাম বলছেন, সে কথাগুলো মীর্জা কাদের বকছেন। তিনি একে একে ফেনী, নোয়াখালী জেলা ও কেন্দ্রীয় আ.লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপি-জামায়াতের পেইড এজেন্ট, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, মাদকাসক্ত, দুঃশ্চরিত্রবান, বেসামাল ও একজন খুনী।

তাকে দ্রুত পাবনা মানসিক হাসপাতাল অথবা কারাগারে প্রেরণের দাবি জানান তারা। মীর্জা কাদের সোনাগাজীর ছোট ফেনী নদীর উপর সাহেবের ঘাট ব্রিজের সংস্কার কাজে ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি করেছেন, তিনি বসুর হাট পৌর এলাকায় তার ছেলেকে দিয়ে সিএনজি চালকদের জিন্মি করে চাঁদা আদায় করছেন। সে চায়না আ.লীগের সভাপতি মারুফ, চরবালুয়ার যুবলীগ সভাপতি সৌরভ, গাংচিলের যুবলীগ সভাপতি রাশেদ ও চর কাঁকড়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মিন্টু সহ ৪জন নেতাকে খুন করিয়েছে।

এর মধ্যে বাদীদের চাপ প্রয়োগ করে একাধিক মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বাংলাদেশ আ.লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। যা সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। তিনি মুখে নীতি কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে বিগত বসুর হাট পৌর নির্বাচনে তার অনুসারী ছাড়া আ.লীগ সহ সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেননি মীর্জা অনুসারীরা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জনৈক কামরুল ইসলাম থেকে মীর্জা কাদেরের ছেলে তাসকিন মীর্জা একটি গাড়ি উপহার নিয়েছেন। মীর্জা কাদের নিজেকে সৎ বলে দাবি করলেও মূলত দুর্নীতি আর টেন্ডারবাজির মাধ্যমে তিনি আমেরিকায় একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন এবং ঢাকা শহরে নামে বেনামে সম্পদের পাহাগ গড়েছেন। মীর্জা কাদরকে গরু চোর আখ্যা দেন তারা। দলীয় হাইকমান্ড তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা না করলে রাজপথ অবরোধেরও ঘোষণা দেন তারা।

ফেনী-নোয়াখালী সহ সারা দেশের হাজার হাজার দলীয় নিবেদিত নেতাকর্মীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলেও শুধু মাত্র দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই হয়ে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন। তারা আরো বলেন, ফেনীর দাগনভূঞায় তার গাড়ি বহরে পঁচা ডিম নিক্ষেপ ও হামলার যে কাল্পনিক অভিযোগ করেছেন তার কোন সঠিক তথ্য প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। অহেতুক ফেনীর শান্তি সম্প্রীতির অগ্রদূত সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী এবং দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছেন।

একটি হাটের মেয়র নিয়ে ফেনীর কোন নেতাকর্মীর মাথা ঘামানোর সময় নেয়। মাদকাসক্ত ও পাগলের স্থান পাগলা গারদে। তাই তারা তাকে শেষ বারের মত পাগলা গারদে ঢুকানোর দাবি জানান। তিন আ.লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী শহরের ফুডল্যান্ড রেস্টুরেন্ট সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আ.লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন।

বক্তব্য রাখেন ফেনী পৌরসভার মেয়র, ফেনী পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন। আরো উপস্থিত ছিলেন ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধূরী সোহেল, ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার, সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন প্রমূখ।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!