ইমপোর্ট পারমিট না পাওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কমেছে দাম বৃদ্ধি

হিলি প্রতিনিধি।।

60

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে নতুন করে ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) না পাওয়ায় ও পুরানো ইমপোর্ট পারমিট শেষ হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি আগের তুলনায় কমে এসেছে। এদিকে আমদানি কমায় সরবরাহ কমার কারনে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬/৭ টাকা করে। ইমপোর্ট পারমিট ইস্যু করা না হলে আসন্ন রমযানে পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ হওয়ায় আশংকা এতে করে দাম উদ্ধমুখি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, আমি হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকি। মাঝে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে যে পেঁয়াজের দাম ২৮ থেকে ৩০ টাকা থেকে কমে ১৯ থেকে ২০ টাকায় এসেছিল। আমদানি কম হওয়ার কারনে এখন সেই পেঁয়াজ দুদিনের ব্যবধানে বেড়ে ২৬ টাকায় দাড়িয়েছে, প্রতিদিনই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, দামের কোন নিদ্রিষ্ট নেই এতে করে মোকামে পেঁয়াজ কিনতেও ভয় পাচ্ছে। রমযান না আসতেই যে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলো তাতে সামনে কি হয় সেই চিন্তা করছি।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক হারুন উর রশীদ জানান, নিষেধাঙ্গা প্রত্যাহারের ফলে সাড়ে ৩মাস বন্ধের পর ২ জানুয়ারী থেকে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলেও পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক আরোপ ও দেশীয় পেয়াজের দাম কম হওয়ার কারনে কয়েকদিন আমদানির পর পড়তা না থাকায় ২৭ জানুয়ারী থেকে পুনরায় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি আবারো দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম ও দাম উদ্ধমুখি হওয়ায় গত ৪ মার্চ থেকে পুনরায় বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়।

রমজানকে ঘিরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের বাড়তি চাহীদার কথা মাথায় রেখে আমদানির পরিমান বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। পুর্বে বন্দর দিয়ে ৪/৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হলেও পরে তা বেড়ে ২০/২৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হতে থাকে এতে করে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ায় পেঁয়াজের দাম কমে ১৯ থেকে ২০টাকায় নেমে আসে। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে সরকার আইপি ইস্যু বন্ধ রাখায় শুধুমাত্র পুর্বে যাদের পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ছিল এর বিপরীতে সেগুলোর মাধ্যমে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত ছিল।

বর্তমানে সেই পুরানো আইপি শেষ হয়ে যাওয়ার কারনে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কমে এসেছে। যার কারনে ইতোমধ্যেই সরবরাহ কমায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম উদ্ধমুখি হতে শুরু করেছে। আমরা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে পেঁয়াজের ইমপোর্ট পারমিটের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদি নতুন করে আইপি দেওয়া হয় তাহলে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি যেমন বাড়বে তেমনি দাম কমে আসবে। আর যদি আইপি খুলে দেওয়া না হয় তাহলে আইপি না থাকার কারনে রমজানে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এতে করে দেশে পেঁয়াজের দাম অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, পেঁয়াজের আইপি যেগুলো ইস্যু রয়েছে সেগুলোই, নতুন করে পেঁয়াজের আইপি ইস্যুর কোন সম্ভাবনা নেই বা পাওয়া যাচ্ছেনা। আইপি যাদের রয়েছে সেই সংখ্যাও কমে গেছে, আগামীকাল একজন, পরেরদিন একজন আমদানিকারকের আইপি শেষ হয়ে যাবে সর্বশেষ এমাসের ২৯ তারিখে শেষ হয়ে যাবে। এর পরে আর আইপি না থাকার কারনে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!