ইশ্বরের প্রার্থনায় মুক্তি মিলবে : খ্রিস্টান ধর্মগুরু

অনলাইন ডেস্ক।।

155
প্রাণঘাতি করোনায় কাঁপছে বিশ্বের ১৯৫টি দেশ। এর মধ্যে উৎপত্তিস্থল চীনের বাহিরে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ইউরোপ ও আমেরিকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটির প্রকোপে নতুন করে আরও ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যার বড় একটি অংশ ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে করোনার থাবায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ হাজার ৫৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশেও সব ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষ নিজ নিজ ধর্মের নির্দেশনা মেনে চলতে চেষ্টা করছেন। নিজের বিশ্বাস নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করছেন তারা।
এ বিষয়ে খ্রিস্টান ধর্মগুরু কার্ডিনাল প্যাকট্রিক ডি’রোজারিও (সিএসসি, আর্চবিশপ, ঢাকা) বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাস শুধু মহামারি নয়, এটা এখন বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক। এ বিষয়ে বাইবেলে কি বলা আছে তা সরাসরি বলা যাবে না। কারণ বাইবেল হচ্ছে- ইশ্বরের বাণী। আর এই বাণী আসে মানুষের সঙ্গে সংলাপ করতে গিয়ে। মানুষের পরিস্থিতি, মানুষের অবস্থা কী? সেখানে ইশ্বর কী চান সেই কথাই বাইবেলে লেখা আছে। তবে বাইবেলের যুগেও দেখা গেছে- অনেক মহামারি ছিল। সেই মহামারিটা দুইভাবে দেখা যেতো। একদিকে- ইতিবাচন। অন্যদিকে নেতিবাচক। নেতিবাচক হিসেবে দেখা যেতো সেটি ছিল ইশ্বরের শাস্তি। মানুষ পাপ করেছে তাই তাকে তিনি শাস্তি দিচ্ছেন। আর ইতিবাচক হিসেবে দেখা গেছে- ইশ্বর আহ্বান করছেন একটা নতুন কিছু হওয়ার জন্য। ওই সমস্যার মধ্য দিয়ে নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই করোনাকে প্রতিহত করতে মানুষ অনেক ধরণের উপায় গ্রহণ করছেন। যা খুবই ভালো উদ্যোগ। কারণ মানুষ মানুষের কল্যাণ চাইছে। সরকার যে যে উপায় গ্রহণ করেছেন সেগুলোকে সাধাবাদ জানাতে হবে। তারপরেও প্রশ্ন থেকে যায় যে- মানুষ এই সময় কী করবে। এ ক্ষেত্রে আমি বলবো- আমরা ইশ্বরে বিশ্বাসী। তার উপরে বিশ্বাস রাখবো। সে জন্য পুরো জগতে প্রার্থনা চলছে, উপবাস চলছে, ত্যাগ স্বীকার চলছে। সে জন্য মানুষের মধ্যে বিশ্বাস আছে যে ইশ্বর মানুষকে সম্পূর্ণভাবে নিচিহ্ন করবেন না। আপাতত একটা সমস্যা হতে পারে কিন্তু সেটাই শেষ নয়। বর্তমান অবস্থা দেখে এটা বলা যাবে না যে এখনই সব শেষ।’
ধর্মগুরু কার্ডিনাল প্যাকট্রিক ডি’রোজারিও বলেন, ‘মাঝে মাঝে নিরাবতাও খুব সজোরে কথা বলে। আমরা দেখছি সারা বিশ্বে একটা নিরব ভাব বিরাজ করছে। এই ঢাকার দিকে তাকলেই বোঝা যাবে- কয়েকদিন আগে কেমন ছিল, আর বর্তমানে কেমন আছে। যে যুবক যুবতিরা ঘরের বাইরে থাকতো তারা আজ ঘরমুখো হয়েছে। এমনটাই হওয়ার কথা। কাজেই সব অশুভর মধ্যে শুভ লক্ষণগুলো কী তা দেখতে হবে।’
‘আমি এটা বলতে চাই যে- বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, তার প্রকৃতি, তার খাদ্য সামগ্রী, তার জীবনযাত্রা তথা সবকিছুর মধ্যে একটা শক্তি আছে। সেই শক্তিটা হচ্ছে সহ্য করার শক্তি। আমাদের জীবনে অনেক কিছু আসবে, তবে এই সহ্য শক্তির মাধ্যমে আমরা সব মোকাবেলা করতে পারব।’- বলেন এই ধর্মগুরু।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না করোনা বাংলাদেশে খুব একটা বিস্তৃতি লাভ করবে।’
আমি সব ধর্মের মানুষের উদ্দেশ্যে বলব- ‘নিরাশ না হয়ে আমাদের যতটুকু শক্তি আছে তা দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। এটাই আমাদের শক্তি। এটাই আমাদের বৈশিষ্ট।’
তিনি বলেন- ‘প্রথমত- আমি বলতে চাই রাষ্ট্র যেসব সিদ্ধান্ত নেয় তা মেনে চলা উচিত। কারণ তারা যেসব নির্দেশনা দিচ্ছে তা মানুষের মঙ্গলের জন্য। সুতারাং আমরা কেনো এটা অবহেলা করব।
দ্বিতীয়ত- আমরা শুধু মানুষ না। আমরা ইশ্বরিয়। যা ইশ্বরের তা ইশ্বরকে দাও। তার সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। এতেই মুক্তি মিলবে।’
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!