এই অব্যবস্থাপনার পরিণতি কতটা ভয়াবহ ?

132
হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় আসছে। যেহেতু যাত্রী বহনকারী সব রকম যান চলাচল বন্ধ, কেউ আসছেন ট্রাকে, কেউ পিকআপে আর বাকিরা পায়ে হেঁটে। এই ঘটনাটি ঠিক তখন ঘটছে, যখন পৃথিবীর প্রায় সব দেশ করোনায় বিপর্যস্ত। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও কারফিউ জারী। আর বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকেরা জীবিকার প্রয়োজনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে ঢাকায় ফিরছেন। কারন একাধিক কর্মী এটা নিশ্চিত করেছেন যে তাঁদের ফোনে ৫ তারিখ থেকে কারখানা চালু হওয়ার বার্তাটি পাঠানো হয়েছে। উপস্থিত না থাকলে অনেককে চাকুরী হারানোর ভয়ও দেখানো হয়েছে। তবে বেশীরভাগ শ্রমিক যখন ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছে, আশ্চর্যজনক ভাবে বেশিরভাগ কারখানা ১১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন এই শ্রমিকরা কি করবে? অনেক শ্রমিককে তাঁদের পূর্বের বাড়িওয়ালা থাকতে দিচ্ছে না, তাই অনেকেই হয়তো ফিরে যাবেন গ্রামে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১লা এপ্রিল করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় দেশটির তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য রফতানিমুখী খাতের জন্য ৫০ বিলিয়ন টাকা (মার্কিন $ ৫৯০ মিলিয়ন ডলার) প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য মূলত এই টাকাটি ব্যবহার করা যাবে। সেক্ষেত্রে এটা পরিস্কার, কারখানা বন্ধ রেখেও শ্রমিকরা বেতন পেতে পারতেন। কিন্তু যেহেতু পোশাক রপ্তানি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি, তাই সরকার কিংবা মালিক পক্ষ, কেউই সম্পূর্ণ ভাবে কারখানা বন্ধের পক্ষে ছিলেন না। ডয়চে ভেলে বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক বলেন, “ একটি সংগঠন হিসেবে আমার সব কিছু বন্ধ করার (কারখানা বন্ধ প্রসঙ্গে) অধিকার নেই। আমি অনুরোধ করেছি (কারখানা মালিকদের), আপনারা পারলে কারখানা বন্ধ করে দেন কিন্তু যার অর্ডার আছে এবং সামলাতে পারবেন, সে চালান।“ হাতে গোণা কিছু ব্র্যান্ড ছাড়া বেশীরভাগ ক্রেতা তাঁদের অর্ডার বাতিল করছেন বলেও জানান রুবানা হক। যতটুকু সম্ভব সুরক্ষা দিয়ে শ্রমিকদের কাজ করার জন্যও তিনি কথা বলেছেন বলে জানান।
তবে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো যেখানে কর্মস্থানে সুরক্ষা দেয়ার সাহস না দেখিয়ে সব রকম কর্মস্থল বন্ধ ঘোষণা করেছেন, সেখানে পোশাক শ্রমিকদের জন্য কি সুরক্ষা অপেক্ষা করছিল, এটা নিশ্চিত নয়। আশার কথা হল, অনেক সমালোচনার মুখে সকল কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানিতে ফিরে আসা এই মানুষগুলোর ফেরার জন্য যেমন নেই যানবাহন, তেমনই থাকার ব্যবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। আর তাঁদের এই একসাথে, পাশাপাশি বসে ট্রাকে অবস্থান কিংবা জমায়েত করে রাজধানী অভিমুখে আসার ফলে একজন থেকে যদি অনেকজনে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে যায়, এর দায়ভার কে নেবে??
লিখক-
মোঃ জান্নাতুল নাঈম তামিম
ইন্সট্রাক্টর, ইংলিশ স্পিকিং অ্যাক্টিভিটি,
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
আরো পড়ুনঃ