একুশের ঈদের বিশেষ নাটক : সেদিন কী ঘটেছিল?

বিনোদন ডেস্ক।।

১১৯

শফিকুর রহমান শান্তনু রচনায় দীপু হাজরা পরিচালিত একুশের ঈদের বিশেষ নাটক : সেদিন কী ঘটেছিল? একুশে টেলিভিশনে প্রচারিত হবে ঈদের ৩য় দিন রাত ৮টায়। অভিনয়ে জাকিয়া বারী মম, সমাপ্তি মাসুক, মনি চৌধূরী, মাসুম বাশার, মিলি বাশার, সবুজ রহমান, শাকিলা আকতার, মীর শহীদ, প্রিয়াংকা মনি প্রমুখ।

গল্পের পথচলায় আসিফ চাকরি করে এনজিওতে। সেই সূত্রে শহর থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে সস্তায় একটা ছিমছাম বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকে। সাথে থাকে তার মা। মূলত মায়ের চাপে পড়ে সে বিয়ে করে ঐশিকে। বাসর রাতেই আসিফ ঐশিকে জানায়, সে একটা মেয়েকে ভালোবাসতো। মেয়েটি তাকে ডাম্প করেছে। এরপরে থেকে তার ভালোবাসার প্রতি আস্থাই নষ্ট হয়ে গেছে। পরিবারের চাপে বিয়ে করলেও তাই সে কখনো ঐশিকে ভালোবাসতে পারবে না। কিন্তু পরিবারের বৌ হিসেবে যথাযথ সম্মান করবে। ঐশি মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। ভােিলাবাসার চেয়ে সম্মানই তাদের কাছে বেশি জরুরি।

নিয়মমাফিক দাম্পত্য জীবন শুরু হয়। ঐশি রান্না করে। ঘরদার সামলায়। আসিফ অফিস করে। সব ঠিক থাকলেও কোথায় যেন এক শূণ্যতা অনুভব করে দুজনেই। এক দুপুরে ঐশি আয়নার মনের খেয়ালে সাজতে বসে আবিস্কার করে এক ছায়া। সে একটু ভয় পেয়ে যায়। তার শাশুগিড়কে বলে। শাশুড়ি বলে, একা বাসায় এমন অনেক কিছু মনে হয়। সব মনের ভুল। কিন্তু ধীরে ধীরে ঐশি আবিস্কার করে এক তরুনীকে। সেই তরুনী দেখতে অবিকল তারই মতো। তরুনীকে দেখে প্রথমে সে ভয় পেলেও ধীরেধীরে সেই ভুতুড়ে তরুনীর সাথে তার একাকীত্ব ভাগ করে নেয়। এই ভুতুরে তরূনীকে ঐশি ছাড়া আর কেউ দেখে না। সে আসলে এক অতৃপ্ত আত্মা।

এখান থেকে তরুনীর গল্পটা আমরা জানবো। তরুনীর নাম পিয়ানা। সে এই বাড়িতেই থাকতো তার স্বামীর সঙ্গে। তার স্বামী তাকে অসম্ভব ভালোবাসতো। রোজ অফিস থেকে ফেরার সময় তার জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসতো। সে খুব মুগ্ধ হয়েছে এমন ভান করলেও আসলে তার কাছে স্বামীর ভালোবাসা অসহ্য লাগতো। কারণ তার কাছে ভালোবাসা নামক বস্তুটির কোনও মূল্য নেই। ভালোবাসাকে সে ঘৃনা করে। সেই ঘৃণা এতটাই যে তাকে খুন পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যেতে পারে! কিন্তু পিয়ানা এমন ছিল না। সে ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসার জন্যে ছটফট করেছে। তার ন’বছর বয়সে, তার মা তাকে আর বাবাকে ছেড়ে চলে যায়। যে লোকটার সঙ্গে যায় তাকে পিয়ানা খুব পছন্দ করত। বাবার বন্ধু। মানুষটা একদিনের বেশি দুদিন না এলে কান্নাকাটি জুড়ত। সেই কান্না শুনে মা মাঝেমাঝে বকা দিয়ে বলত, একটা বাইরের লোকের জন্য এত সোহাগ কিসের? যখন শুনল মা সেই বাইরের লোকের সঙ্গে চলে গেছে এবং চিঠি লিখে গেছে আর কখনও ফিরবে না তখন এতটাই হকচকিয়ে গিয়েছিল যে, দু:খ করতেও পারে নি। তিনবছর পর, বাবা আবার বিয়ে করল। সেই সৎ মা অত্যাচারের বদলে তাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসতো। তার কারণে তারা বাচ্চা পর্যন্ত নেয় নি। সেই সৎমাও হঠাৎ চলে যায়। এরপর থেকে তার মনে হতে থাকে, সে যাদের ভালোবাসে তারা তাকে ছেড়ে যাবে। তাকে কষ্ট দেবে। এরপর তার বিয়ে হয় যার সাথে সেও তাকে খুব ভালোবাসে। তার ভয় হতে থাকে, একদিন স্বামীও তাকে ছেড়ে চলে যাবে। তখন সে ঠিক করে, সে এমন কিছু করবে, যাতে তার স্বামী তাকে ছেড়ে যেতে না পারে। তাই সে স্বামীকে খুন করার প্ল্যান করে। কিন্তু স্বামীকে খুন করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে সে অতৃপ্ত আত্মা হয়ে বাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়ায়।

এই অতৃপ্ত আত্মা পিয়ানার প্রভাব পড়তে থাকে ঐশির ওপর। ধীরে ধীরে ঐশি অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। ঐশির মনে হতে থাকে, আসিফ যদি তাকে ভালোবাসে তাহলে পিয়ানা আসিফকেও মেরে ফেলতে চাইবে। পরিস্থিতি জটিল হতে থাকে। এমন আরও ঘটনা নিয়ে এগুতে থাকে ঈদের বিশেষ নাটক সেদিন কী ঘটেছিল?

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!