কক্সবাজারে এখন শুধুই সুনসান নীরবতা

অনলাইন ডেস্ক।।

85
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কক্সবাজারে পর্যটক সমাগম নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। পর্যটকদের নিষিদ্ধ করতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এ কারণে কক্সবাজারে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। পর্যটকরা বলছেন, হঠাৎ করে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন তারা। তারপরেও সরকারের নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটকরা।
এদিকে, পর্যটক না থাকায় সৈকত এলাকায় বন্ধ করা হয়েছে হাজারেরও বেশি দোকানপাট। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্টে দেখা গিয়ে যায়, পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। চেকপোস্ট থেকে মাইকিং করে করোনাভাইরাস ঝুঁকি থেকে সতর্কতার পাশাপাশি পুলিশি টহল চলছে। সৈকতের কোন পয়েন্টে কোন পর্যটককে নামতে দেয়া হচ্ছে না।

একজন পর্যটক বললেন, অনেক শখ করে এখানে এসেছি, অনেক দূরে থেকে। আরেক পর্যটক বলেন, সরকার এটি আমাদের জন্য ভালই করেছে নিয়মটা, ঠিকই আছে। সকল দেশে এই নিয়ম প্রযোজ্য। সৈকতের সব পয়েন্টে এখন পর্যটকশূন্য। তাই বন্ধ হয়ে গেছে শতাধিক বার্মিজ দোকান।

একজন ব্যবসায়ী বললেন, যেহেতু এখানে পর্যটক নেই তাই আমরা দোকান খোলা রেখে কি করব? আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, যারা দোকানে কাজ করছে দোকান বন্ধ থাকার কারণে এখন তাদেরকে বিদায় করে দিতে হচ্ছে আমাদেরকে। টুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার শাখার সহকারী পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম বলেন ,পর্যটকদেরকে আমরা নিরুৎসাহিত করছি যাতে তারা ঘুরে না বেড়ায়।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৭০ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ মারা গেছেন। আইসোলেশনে রয়েছেন ১৯ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ৪৩ জন। সুস্থ হয়েছেন তিনজন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক নয়, সচেতন হতে হবে। আগে থেকে নানা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে রোগটি এখনও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। করোনাভাইরাস যেন ব্যাপক হারে সংক্রমিত হতে না পারে সেজন্য সন্দেহভাজন বিদেশফেরত ও তার সহচার্যে আসা ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সারা দেশে বিদেশফেরত ৫ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশিকে হোম কোয়োরেন্টাইনে (১৪ দিন) রাখা হয়েছে। কিছু কিছু সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তকে আইসোলেশনে এবং কিছুসংখ্যক রোগীকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে।
করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ওয়াজ মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সব ধরনের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন ও চিকিৎসার জন্য টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার ময়দান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালকে এই রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। আরও অনেক হাসপাতাল ব্যবহারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার শয্যার ব্যবস্থা করা যাবে। বড় পরিসরে প্রয়োজন হলে বিশ্ব ইজতেমার ময়দান ব্যবহার করা হবে। সে জন্যই বিশ্ব ইজতেমার জায়গাটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!