কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট থেকে মুক্তির দাবি শিক্ষার্থীদের-

মোঃ মনির হোসেন ত্রিশাল, ( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ।।

145

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের দাবি সেশন জট থেকে মুক্তি দাও, না হয় বিষ দাও।জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) একে একে সময় চলে গেলেও সময় মতো সেমিস্টার শেষ না হওয়াতে হতাশা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষকরা অজুহাত দেখান,এক্সটার্নাল শিক্ষকরা খাতা সময় মতো জমা দেন না। অথচ এক্সটার্নাল শিক্ষকরা খাতা সময় মতো জমা না দিলেও তার জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, সবাই মিলে উৎসব করে আমাদের সেশনজটে ফেলছেন যার ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, আমাদের এডাডেমিক এবং প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে। এতে আমরা চাকরি বাজারেও প্রতিযোগিতায় আসতে পারছি না। মানব সম্পদ বিভাগের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ব্যাচের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুরা যখন চাকরির আবেদন করছে তখনো আমার এক সেমিস্টার বাকি। সেশনজটের কারণ হিসেবে শিক্ষক সংকট এবং ক্লাস রুমের সংকটকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করান শিক্ষকরা। কিন্তু কোনও বিভাগের একমাসও সেশনজট নেই।

বিভাগ ভেদে দেড় থেকে দুই বছরের বেশি জটও রয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এজন্য চার বছরের স্নাতক ও এক বছরের স্নাতকোত্তর বর্ষ মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা শেষ করতে যেখানে পাঁচ বছর লাগার কথা, সেখানে ৬-৭ বছরেও উচ্চশিক্ষার চৌকাঠ পার হতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের।সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সেশনজট রয়েছে বিজ্ঞান অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে।তবে সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ অবস্থায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অর্থনীতি বিভাগ।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান,
১। দ্রুত কোর্স সম্পন্ন হোক আর না হোক। স্যারদেরকে সময় মতো পরীক্ষা নিতে হবে।
২।ইউজিসি নিয়ম অনুসারে ৬ সপ্তাহ ৪২ দিনের মধ্যে রেজাল্ট দিতে হবে।

৩।করোনা চলাকালীন সময়ে সরকার কর্তৃক অনলাইন ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ থাকলেও স্যার গাফিলতির করে ক্লাস না নেওয়ায় ৫ এবং ৬ সেমিস্টার ক্লাস শেষ করে এক্সাম সহ ২১ সালের ডিসেম্বর এ ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।

৪।তারপরেও যেহুতু ১ বছর সেশনজট হয়ে যায় তাই ৭ সেমিস্টার দেওয়ার পর এ্যাপেয়ার্ড সার্টিফিকেট দিতে হবে এবং ৮ সেমিস্টার পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ করে যথাসময়ে পরীক্ষা নিতে হবে। এবং সামনে চাকুরীর পরীক্ষা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রয়োজন হলে পরীক্ষার ৪২ দিনের মধ্যে ফাইনাল ফলাফল দিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!