করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মাথা ন্যাড়ার হিড়িক!

অনলাইন ডেস্ক।।

21
দেশে একের পর এক গুজব রটছে করোনার প্রতিষেধক হিসেবে। কোথাও রাত জেগে থানকুনি পাতা খাওয়া হচ্ছে, কোথাও পানি পড়া, কোথাও আবার তুলসি পাতা। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে এবার মাথা ন্যাড়া শুরু হয়েছে টাঙ্গাইলে। গেল কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক পড়েছে।
এরই মধ্যে শ’ শ’ যুবক মাথা ন্যাড়া করেছেন। সেই ন্যাড়া মাথার দলগত ছবি পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সব বয়সের মানুষের মাঝে মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে মাথা ন্যাড়া করার দৃশ্যে মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে মাথা ন্যাড়া করার এই বিষয়টি হাস্যকর বলছেন চিকিৎসকরা।
করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয় বাসা-বাড়িতে। মাথা ন্যাড়া করে নিজেকে ঘরে রাখতেই এ ব্যবস্থা বলেও জানিয়েছেন অনেকেই।
তারা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন সবাইকে বাসা-বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। কতদিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বা স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরবেন তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই সুযোগে মাথা ন্যাড়া করে নিচ্ছেন তারা। আবার অনেকেই জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনায় এখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সেলুনগুলোও বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন সেলুনে যেতে না পারায় মাথায় চুল বড় হয়ে যাচ্ছে। গরমের এই সময়ে চুল বেড়ে গিয়ে মাথা চুলকাচ্ছে। তাই বাড়িতে বসেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলছেন।
কয়েকজন নরসুন্দর জানান, সরকারি নির্দেশে বাজারের সেলুন ঘর বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই সংসার চালাতে খুব হিমসিম খেতে হচ্ছে। বাড়ি গিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার জন্য ফোন দিচ্ছেন। পরিচিত মানুষ হলে তাদের বাড়িতে গিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দিয়ে আসছি। কিন্তু বিদেশফেরতদের তারা মাথা ন্যাড়া করেননি বলেও জানান।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মাথা ন্যাড়ার সঙ্গে করোনাভাইরাস ঠেকানোর এবং ন্যাড়া করলেই যে ভাইরাসে সংক্রমিত হবে না এর সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনও ভিত্তি নেই। বিষয়টি হাস্যকর। এসব গুজব এড়িয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলে জানান তিনি।
আরো পড়ুনঃ