করোনায় একবছর ধরে হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ ৫ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

সালাহউদ্দিন বকুল, হিলি প্রতিনিধি।।

67

করোনা ভাইরাসের কারনে ভারত যাত্রী পারাপার শুরু না করায় দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মাঝে যাত্রী পারাপার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে করে চরম বিপাকে পড়েছেন ভারতে চিকিৎসা নিয়ে আসে ও নিতে যাওয়া রোগী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষরা। যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকায় হিলি স্থলশুল্কস্টেশন ৫ কোটি টাকার মতো ভ্রমন কর আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট দিয়ে গড়ে প্রতি মাসে চিকিৎসা, ব্যবসা, ভ্রমনসহ বিভিন্ন কাজে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষ ভারত-বাংলাদেশের মাঝে পারাপার হয়ে থাকতো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রামন প্রতিরোধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গত ২৩ মার্চ লগডাউন ঘোষনা করে। একইসাথে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট দিয়ে সকল ধরনের যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে করে ভারত-বাংলাদেশের মাঝে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে যায়।

২৬মার্চ থেকে বাংলাদেশেও লকডাউন ঘোষনার কারনে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানিও বন্ধ হয়ে যায়। এর পরে অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৮জুন থেকে বন্দর দিয়ে দুদেশের মাঝে পণ্য আমদানি রফতানি শুরু হলেও যাত্রী পারাপার চালু হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট চালু থাকলেও ভারত যাত্রী পারাপার চালু না করায় এখনও এই পথ দিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু হয়নি।

বগুড়া থেকে হিলিতে ওষধ নিতে আসা জুলফিকার আলী বলেন, আমার স্ত্রীর হার্টের সমস্যা যার কারনে ওকে নিয়ে ভারতের ব্যাঙ্গালুরে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম দেবী শেঠির কাছে। সেখানে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এসেছি, কিন্তু নিয়মিত ভারতের ওষধ খেতে হয়। ইতোমধ্যেই যে ওষধ নিয়ে এসেছিলাম তা শেষ হয়ে গিয়েছে।

পরবর্তীতে ভারতে যাওয়ার জন্য আবারো ভিসা করলেও করোনার কারনে যেতে পারছিনা। আমরা খুব বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি আর মাত্র দুদিনের ওষধ আছে, তাই ওষধ পাওয়া নিয়ে খুব চিন্তায় আছি অন্তত ১ মাসের ওষধ পেলেও ভালো হতো। অতিসত্বর যেন যাত্রী পারাপার চালু করা হয় তাহলে আমাদের মতো মানুষজন যারা চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম বা যাবো তাদের খুব ভালো হতো।

সান্তাহার থেকে আসা ইদ্রিস আলী বলেন, আমার নিজের চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম সেখানে চিকিৎসা করে এসেছি কিন্তু আমাদের নিয়মিত ওষধ খেতে হয় যা ভারতীয় ওষধ। কিন্তু করোনার কারনে এখন যেতেও পারছিনা তাই বাধ্য হয়ে হিলি সীমান্তে এসেছি বিজিবি বা বিএসএফের পা হাত ধরে যদি কোনক্রমে ওষধ নিতে পারি সেজন্য।

ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আমেনা বেগম বলেন, সম্প্রতি আমার মার ক্যান্সার ধরা পড়েছে, যার কারনে তার চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু করোনার কারনে তাকে নিয়ে যেতে পারছিনা এনিয়ে খুব দুশিন্তায় পড়ে গেছি। তাকে নিয়ে কি করবো না করবো হিলিতে এসেছিলাম জানতে কবে খুলবে না খুলবে সেজন্য।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, করোনার কারনে দীর্ঘদিন ধরে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। এতে করে আমরা ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে রয়েছি। পুর্বে পাসপোর্টের মাধ্যমে ভারতে গিয়ে পণ্য দেখে তা ক্রয় করে সেসব পণ্য দেশে আমদানি করতাম কিন্তু সেটি বর্তমানে সম্ভব হচ্ছেনা। যার কারনে বর্তমানে মোবাইলের মাধ্যমে বা অন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে কথা বলে তারা যে পণ্য রফতানি করছেন সেটিই নিতে হচ্ছে আমাদের। এতে করে পণ্যের মান নিয়ে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে রয়েছি বিশেষ করে বর্তমানে চাল আমদানির ক্ষেত্রে বেশী সমস্যা হচ্ছে। খারাপ চাল রফতানির কারনে আমাদেরকে লোকশান গুনতে হচ্ছে।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের উপ কমিশনার সাইদুল আলম বলেন, করোনার আগে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট দিয়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার যাত্রী দুদেশের মাঝে আগমন ও বর্হিগমন করতো। এর বিপরীতে প্রতি মাসে আমাদের ভ্রমন কর বাবদ ৪০ লাখ টাকার মতো আয় হতো। কিন্তু করোনার কারনে গত প্রায় ১বছরের মতো সময় ধরে এই পথ দিয়ে যাত্রী আগমন ও বর্হিগমন দুটোই বন্ধ রয়েছে।

এর কারনে আমাদের প্রায় ৫ কোটি টাকার মতো ভ্রমন কর আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছি। যেহেতু সরকারের যোগ্য নেতৃত্বের কারনে আমাদের করোনা ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হয়েছে ও করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো। আমরা আশা করছি অচিরেই এই পথ দিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু হবে ও ভ্রমনকর আদায় বৃদ্ধি পাবে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!