করোনায় পঞ্চগড়ে মাছ শিকারীর সংখ্যা বেরেছে

41

ডিজার হোসেন বাদশা, পঞ্চগড় প্রতিনিধি।। করোনার এই মহামারীর সময় এবার বর্ষা মৌসুমে পঞ্চগড়ে বিভিন্ন খাল-বিল ও নদ-নদীতে মাছ শিকারের ধুম পড়েছে। কেউ বসসি দিয়ে, কেউ জাল টেনে, কেউ দাঁড়কি দিয়ে, কেউবা কারেন্ট জাল পেতে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। বর্ষার পানিতে মাছ ধরতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন গ্রামের খাল-বিল ও নদ-নদীতে। গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষনে পঞ্চগড়ের করতোয়া, মহানন্দা, চাওয়াই, তালমা সহ জেলার ৩৩ টি নদী সহ বিভিন্ন খাল-বিলে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সেই সাথে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দেখাও মিলছে ওই সকল নদ-নদী ও খাল বিলে। তাই উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এলাকার তরুন-তরুনী, যুবক-যুবতী সহ পেশাজীবি মৎস জিবীরা । অনেকে সারাদিন মাছ শিকার করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। আবার অনেকে সখের বসেও নদীতে মাছ শিকারে নেমেছে।

করোনায় মানুষের কর্ম সংস্থান ও আয়ের উৎস কমে যাওয়ায় অধিকাংশ মানুষ বর্ষার নতুন পানিতে মাছ শিকারে নেমে পরেছে। নদী এলাকার গ্রামগুলোতে জাল তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে। তবে মাছ ধরার প্রাচীন উপকরনের মধ্যে রয়েছে দাঁড়কী ও জাল। তাই বর্ষায় দাঁড়কীর ও জাল কদরও বেড়ে গেছে।

স্থানিয় মৎস জিবী আনারুল বলেন আমাদের পৈত্রিক পেশা মাছ শিকার। আগের দিনে প্রায় পুরোবছর খাল বিলে পানি থাকতো। তাই পুরোবছর মাছ বিক্রি হতো। কিন্তু বর্তমানে বছরের ৮/১০ মাসই খাল-বিলে পানি থাকে না। শুধু বর্ষা মৌসুমেই খাল-বিলে নতুন পানি হলে মাছ আমরা বেশী ব্যাস্থ হয়ে পরি।

স্থানিয় বাবুল হোসেন বলেন, করোনায় কাজ কাম বন্ধ রয়েছে তাই মাছ শিকার করে পরিবার সহ দিন অতিবাহিত করী।

স্থানিয় সিদ্দিক হোসেন বলেন দেশী জতের ছোট মাছ আগের দিনে কেহ কিনতেই চাইতো না। কিন্তু বর্তমানে পুকুরে চাঁষ করা রুই-কাতলা, সিলভারকার্প ও পাঙ্গাশের চেয়ে দেশী জাতের টেংরা, পুটি, শিং, মাগুর, কৈ ও শাটি মাছের দাম অনেক বেশী। তাই আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। তাই আমরা বাজার থেকে দাড়কী জাল কিনে নিয়ে নদির পানিতে মাছ ধরি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!