করোনা সংক্রমণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ

মোঃ জান্নাতুল নাঈম তামিম প্রশিক্ষক, ইংলিশ স্পিকিং অ্যাক্টিভিটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

565
বাংলাদেশের কাছে যথেষ্ট সময় ছিল পূর্ব প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) প্রথম থেকেই বলে আসছিল করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে এমনটাও বলেছেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যে পর্যায়ে যে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, কতৃপক্ষ এক ধাপ এগিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সাধারন নাগরিকের মনে সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে জেগেছে নানা প্রশ্ন। টেস্টিং কিট এর অভাব, বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে (করোনার লক্ষণ থাকলে ) অনীহা, ডাক্তারদের সুরক্ষা পোশাকের অভাব, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি সহ নিয়মিত গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসছে বিভিন্ন ইস্যু।
দেরীতে হলেও সাধারণ মানুষের করোনা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে, রাজধানি সহ অধিকাংশ শহরগুলোতে মানুষ বেশিরভাগ সময় বাসায় অবস্থান করছেন। তবে নিম্ন আয়ের মানুষের সে সুযোগ নেই। কারণ দিন এনে দিন খাওয়া এসব মানুষের একদিনও বসে থাকার উপায় নেই। রাজধানীর একাধিক রিকশা চালক ও দিন মজুর এর সাথে কথা বলে তাদের অসহায় জীবনের সত্যতার প্রমান মিলেছে। রাজধানীর মিরপুর এলাকার রিকশা চালক জামান সরকার বলেন, “ ভাই, বসি থাকার উপায় নাই। আইজ রিকশা নিয়া না বাইর হইলে রাইতে খাবার জুতপে (জুটবে) না। কাস্টমার হয় না। ইনকাম ও কম।“ এর সাথে জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি তে তারা আরও বিপাকে পড়েছেন। যেখানে প্রয়োজনীয়ই খাবার কেনাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে, সেখানে স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য উপকরন কেনা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। নিয়মিত খাবার এর জন্য এই শ্রেণির মানুষ নির্ভর করে সস্তা হোটেল গুলোর উপর। এসব হোটেল সাধারন বিচারেই অস্বাস্থ্যকর। গ্লাস ও কাপ ঠিকভাবে না ধুয়েই পানি ও চা পরিবেশন করা হয় এই। হাত পরিস্কারের জন্য নেই পানি ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা। ফলে করোনা ছড়াতে এই হোটেল গুলোর ভুমিকা বেশ ভয়ানক হতে পারে। বসবাসের ক্ষেত্রে এরা বেছে নেয় বস্তিগুলো। যেখানে গাদাগাদি করে অনেক মানুষ রাত্রি যাপন করে থাকে। সেক্ষেত্রে খুব দ্রুতই এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এটা বলা যায়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে উচ্চবিত্তরাই চিকিৎসা পেতে (করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত) সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে এটা অনুমান করা খুব ভুল হবে না যে, করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে, এই মানুষ গুলোর অবস্থা খুব শোচনীয় হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবির থেকে শুরু করে জনপ্রিয় উপস্থাপক ডা. আব্দুন নূর তুষার, সবাই দেশ “লকডাঊন” কথা বললেও সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গুলো সঠিক সময়ে আসছে না। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অন্যান্য দেশ গুলোর মত বাংলাদেশের সরকার এখনি যদি “লকডাঊন” করা সহ খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারেন, দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!