কাশ্মীরি আপেলকুল চাষে নিজের ভাগ্য ফিরিয়েছেন -আব্দুর রাজ্জাক

সালাহউদ্দিন বকুল, হিলি প্রতিনিধি।।

90

দিনাজপুরের হিলিতে কাশ্মিরি আপেল কুল চাষাবাদ করে নিজের ভাগ্য ফিরিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক নামের এক যুবক। তার বাগানের উৎপাদিত কাশ্মীরি আপেলকুল সুস্বাদু আর মিষ্টি হওয়ায় এলাকায় যেমন চাহীদা রয়েছে তেমনি এই কুল চাষ করে এখন তিনি এলাকার অনেকের কাছে মডেল বনে গেছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এই কাশ্মিরি আপেল কুল চাষের দিকে ঝুকছেন।

হিলির রাঙ্গামাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এর পাশাপাশি নিজেকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গত দুই বছর আগে কাশ্মীরি আপেলকুল বরই চাষ শুরু করেন। সুদুর যশোর থেকে প্রতিটি চারাগাছ ১শ টাকা মূল্য হিসেবে মোট ৬শ টি কাশ্মীরি আপেলকুলের চারা কিনে আনেন সেখান থেকে। প্রায় দেড় ফুট লম্বা আকারের চারাগাছ লাগানোর চার মাসের মধ্যে প্রতিটি গাছে ফল আসতে শুরু করে। ওই বছরেই তিনি ৬০ হাজার টাকার বরই বিক্রি করে গ্রামের সকলকে তাক লাগিয়ে দেন।

সরেজমিন রাঙ্গামাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৪ শতাংশ জমিতে বরই বাগান করেছেন আব্দুর রাজ্জাক। এই মৌসুমে তার বাগানের প্রতিটি গাছে কাশ্মীরি আপেলকুল ছেঁয়ে আছে। ফলের ভারে গাছসহ ডালগুলো নিচের দিকে ন্যুয়ে পড়েছে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা হয়েছে প্রতিটি গাছ। পাখির হাত থেকে বরই রক্ষায় পুরো বাগানজুড়ে উপরে জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য বাগানের এক পাশে উঁচু করে টোল টাঙানো হয়েছে। রাতে বাগান মালিক রাজ্জাক টোলে বসে বাগানটি পাহাড়া দেন। দুই-একদিনের মধ্যেই প্রতিটি গাছ থেকে বরই পাড়া শুরু হবে।

বাগান মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি বছর এই বাগান থেকে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হবে। ফল বিক্রির পাশাপাশি বর্তমান কলম চারা তৈরি করছি। চারা থেকেও আমার বাড়তি আয় আসবে। আশা করছি বরইগুলো বিক্রি করলে আমার আর কোন অভাব থাকবে না। এই উপজেলায় এটিই প্রথম কাশ্মীরি আপেলকুলের বাগান। পাইকারি ৭০-৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হবে। আর বাজারে খুচরা বিক্রি হবে ১০০ টাকা কেজি দরে। এবার ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বরই বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

বাগান দেখতে আসা একইগ্রামের ইউসুফ হোসেন বলেন, আমার মতো আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন রাজ্জাকের কাশ্মিরি আপেল কুলের বাগানটি দেখতে আসছেন। সে এই বাগান করে বেশ স্বাবলম্বি হয়েছে, তার বাগান দেখে আমিও দেড় বিঘা জমিতে এই জাতের কাশ্মীরি আপেলকুল বরই বাগান করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা মতো আরো অনেকে আপেল কুলের বাগান করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা জানান, হাকিমপুর উপজেলায় ২ হেক্টর জমিতে মোট ১৬টি বরই বাগান রয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রতিটি বাগানেই এবার ভাল ফলন হয়েছে। বিশেষ করে রাঙামাটি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের কাশ্মীরি আপেলকুলের বাগানটি পরিদর্শন করেছি। তার বাগানের বরইগুলো খুবই সুস্বাদু এবং মিষ্টি। তার বাগান দেখে এলাকার অনেক বেকার যুবক এরকম লাভজনক বরই বাগান করতে উৎসাহি হয়ে উঠছেন। ভাল ফলনের জন্য কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে রাজ্জাকের বাগানসহ উপজেলার সব বাগান মালিকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!