কুবির নতুন রাস্তায় ফাটল,অপরিকল্পনার অভিযোগ

কুবি প্রতিনিধি:

72
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ নতুন নির্মিত রাস্তা দুই মাসের মাথায় বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে যাওয়া ও ফাটল ধরার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও ব্যাপক অপরিকল্পনাও অভিযোগ রয়েছে। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে জানা যায়, গেট থেকে জিরো পয়েন্ট ৭ ইঞ্চি, জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যাফেটেরিয়া পর্যন্ত ৬ ইঞ্চি, ক্যাফেটেরিয়া থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত ৫ ইঞ্চি করে তৈরি করা হয়েছে। নতুন নির্মিত এ রাস্তায় বেশ কয়েক জায়গায় ভেঙে গিয়েছে ও ফাটল ধরেছে। তবে ক্যাফেটেরিয়া হতে শহীদ মিনার পর্যন্ত রাস্তায় ভেঙে যাওয়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি যা ৫ ইঞ্চি করে তৈরি করা হয়েছে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পুরো রাস্তা নির্মাণের জন্য এ প্রকল্পের কাজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলী আশরাফের দায়িত্ব চলাকালীন সময়ে আনা হয়েছিল। যার বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা। কাজটি সম্পন্ন করা হয় বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর দায়িত্ব চলাকালীন সময়ে ২০১৯ সালের শেষের দিকে।
ইজিপির মাধ্যমে রাস্তার কাজটি পাওয়া ইউনুস এন্ড ব্রাদারস’র ঠিকাদার মো. সিদ্দিক বলেন, “রাস্তা তৈরি করা হয়েছে ৫ টন সহনীয়, এখন যদি ২৫ টনের পাথড় ভর্তি ট্রাক যাতায়াতের কারনে রাস্তা ভেঙে যায় সে দ্বায়ভার আমি নিব না। এ দ্বায় নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের।”
ভাড়ি ট্রাক যাতায়াতের কারনে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন কিছু প্রশাসনকে জানিয়েছিল কিনা জানতে চাইলি তিনি বলেন, “আমি প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম যেনো ভাড়ি ট্রাক যাতায়াত না করে। তাহলে রাস্তা টিকবে না। কারন ৫ টনের চেয়ে বেশি ওজনের ট্রাক চললে রাস্তা ভেঙে যাবে ও ফেটে যাবে।
দুই মাসের মাথায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার কারন জিজ্ঞেস করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী সহিদুল হাসান বলেন, “রাস্তা তৈরি করার পর কমপক্ষে ২৭ দিন লাগে চূড়ান্ত উপযোগী হতে, কিন্তু এর আগেই বিভিন্ন ভাঁড়ি ট্রাক যাতায়াত করার কারনে রাস্তা বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গিয়েছে। প্রথমে আমরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম ভাড়ি ট্রাক যাতায়াত না করার। কিন্তু ভবন নির্মাণের জন্য যারা কাজ করছিলেন তারা বলেছেন রাস্তা ভেঙে গেলে ঠিক করে দিবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, প্রকল্পটি ই-টেন্ডারে আহ্বান করে করে সমাবর্তনের কারনে একটু দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে প্রতিটি স্তরে কাজ নিখুঁতভাবে করা হয়েছে। এখন এমন ভাঙ্গন ধরেছে যা প্রশ্ন তুলছে। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলবো ও এর সামাধান করার চেষ্টা করবো।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!