কুমিল্লার চিকিৎসা সেবাকে অনন্য উচ্চতায় তুলেছেন সাবেক সিভিল সার্জন

আরিফ আজগর।।

89
কুমিল্লা জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ(কুমেক) হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এর আগে গত ২০১৩ সালে তিনি কুমিল্লায় সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন। চলতি বছরের প্রথম মাসেই পদোন্নতি হয় তার। দীর্ঘ ৭ বছরের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সাহসী ভূমিকায় অনঢ় ছিলেন ডাঃ মুজিবুর রহমান। ২০১৩ সালে সিভিল সার্জন হিসেবে যোগদানের পর জরাজীর্ণ ভবন ছিল কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
সেই জীর্ণ ভবনকে স্থানান্তর করে দৃষ্টিনন্দন কার্যালয় নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন ডাঃ মুজিবুর রহমান। কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সহযোগীতায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালে নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হয় এবং ২০১৭ সালে দৃষ্টিনন্দন সিভিল সার্জন কার্যালয়টির (দেশের প্রথম সিভিল সার্জন কার্যালয়) উদ্বোধন করা হয়। পাশাপাশি ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ইপিআই ভবন নির্মাণ করা হয় ডাঃ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে। শুধু তা ই নয় কার্যালয়ের ভেতর দৃষ্টিনন্দন মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার খুলে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন ডাঃ মুজিবুর রহমান।
কুমিল্লায় সিভিল সার্জন হিসেবে ৭ বছরে অন্তত কয়েক’শ ভুয়া ডায়াগনষ্টিক সেন্টার বন্ধসহ অংখ্য ভুয়া ডাক্তারকে দমিয়ে দিয়েছেন এই কর্মকতা। তার ৭ বছরের কুমিল্লার সিভিল সার্জন ক্যারিয়ারের দুটি সফলতা হৃদয় কেড়েছে কুমিল্লার মানুষের। দেবিদ্বার উপজেলার হাড়ভাঙার চিকিৎসক জসীম উদ্দিনের ভুলভাল চিকিৎসা এবং অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা ব্যবস্থাকে একটি শৃঙ্খলার জায়গায় দাঁড় করিয়েছেন ডাঃ মুজিবুর রহমান। অপরদিকে জেলার বরুড়া উপজেলার লগ্নসারের হাড়ভাঙার চিকিৎসা কেন্দ্রের যে দুরাবস্থা ছিল, অনিয়ন্ত্রিত ভাবে চালানো এই চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে অনেকেই হয়েছেন পঙ্গু, আবার বেশিরভাগ রোগীই অপচিকিৎসার স্বীকার হয়ে ঘরেবসা অবস্থা হয়েছে।
ডাঃ মুজিবুর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ওই হাড়াভাঙার চিকিৎসালয়ে বারবার অভিযান পরিচালনা করে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের বিল্ডিং ঘরে স্বচ্ছ পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করেছেন এবং গোটা চিকিৎসা সেবার মান বদলে দিয়েছেন। এছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ক্রমান্বয়ে অভিযান পরিচালনা করে সেবার মান যাছাইয়ে ব্যর্থ হওয়া ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিকগুলোকে বন্ধসহ দারুণ ভূমিকা রেখেছেন স্বচ্ছ পরিবেশে চিকিৎসার মান বৃদ্ধিতে।
অপরদিকে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে বারংবার পরিদর্শণ করে দেখভালের উপর রেখেছেন সাবেক এই সফল সিভিল সার্জন। প্রচুর জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসাসেবাকে চ্যালেঞ্জিং বিষয় মনে করে কুমিল্লার চিকিৎসা সেবাকে পৌঁছে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। কুমিল্লা শহরতলীর প্রতিষ্ঠিত ক্লিনিকগুলোকেও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখে সুষ্ঠ শৃঙ্খলার মধ্যে এনেছিলেন তিনি। ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অপরাধে নগরীর মেডিনোভা হসপিটালকে ২ লাখ টাকা জরিমানাসহ সতর্ক করে পরবর্তীতে স্বচ্ছ রিপোর্ট প্রদানের আওতায় আনা হয়। শুধু তাই নয়, সারাদেশে ডেঙ্গু যখন মহামারি আকার ধারণ করেছিল, জেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশের সহযোগীতায় তা প্রতিরোধে সর্বপ্রথম প্রচারণা শুরু করা হয়েছিল কুমিল্লায়।
পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিদ্যালয় এবং প্রতি ঘরে ঘরে হাজার হাজার লিফলেট বিতরণ করা হয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায়। সারাদেশে যখন ডেঙ্গুর হৈচৈ, ঈদে ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসা ঘরমুখো মানুষের ভীড়, তখন কুমিল্লা সিভিল সার্জনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কুমিল্লার ৫৭টি বাস এবং রেলওয়ে স্টেশনে “ডেঙ্গু হেলথ্ ডেস্ক” খোলা হয়েছিল ।
সচেতনতামূলক লিফলেট (যাতে লেখা ছিল কুমিল্লায় অবস্থানকালীন সময়ে ডেঙ্গু ঝুঁকিতে কি কি করণীয়) বিতরণ করা হয়। মানুষকে এভাবে সচেতন করার ফলে কুমিল্লা জেলায় ডেঙ্গুতে একজন রোগীও মারা যায়নি। কুমিল্লা ঢাকার কাছাকাছি জেলা হওয়া সত্ত্বেও সিভিল সার্জনের নিরলস ভূমিকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়। শুধু তা ই নয়, আগের বছর চিকনগুনিয়া ইস্যুতেও একই ভূমিকা রাখেন সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান।
১০০ শয্যা বিশিষ্ট কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল(সদর হাসপাতাল) বিভাগীয় পর্যায়ে বারবার শ্রেষ্ঠ হাসপাতালের স্বীকৃতি, দাউদকান্দি এবং তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সারা দেশে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে কয়েক বছর যাবৎ। তারই ফলশ্রুতিতে বিগত ২০১৪ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে “স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার ২০১৪”, ২০১৯ সালে স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখার জন্য (দেড় লাখ মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ডাটাবেজ প্রস্তুত এবং ব্লাডলিংক কুমিল্লা নামে একটি এ্যাপস্ খোলার জন্য) সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ পদক “জনপ্রশাসন পদকে” ভূষিত হন সাবেক সফল সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান।
আরো পড়ুনঃ