কুমিল্লায় পেয়াজ দাম বেশি রাখায় তিন দোকানদারকে জরিমানা

88

মাহফুজ নান্টু।। পেয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিরক্ত নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষজন। গত রবিবার ৬০ টাকা কেজী পেয়াজ ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা কেজী দরে বিক্রি হচ্ছে এমনস খবরে নড়েচড়ে বসে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন । কুমিল্লার সর্বত্র আলোচনার শীর্ষে থাকা পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে।
বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর গতকাল বুধবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রুবাইয়া খানম নগরীর রাজগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত দামে পেয়াজ বিক্রির দায়ে তিনটি দোকানকে সাড়ে আট হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে এতে সহনীয় পর্যায়ে আসেনি পেয়াজের দাম।
তবে প্রশাসনের এমন অভিযানের পরেও কমছেনা পেয়াজের দাম এমন অভিযোগ নগরীর সবত্র। সর্বশেষ গতকাল বুধবার রাতেও নগরীর বিভিন্ন মুদিমালের দোকানে ৮৫ টাকা দরে এবং নগরীর বাইরে বিভিন্ন বাজারে ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা কেজী দরে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ।
সরেজমিনে, গতকাল বুধবার নগরীর রাজগঞ্জ বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানী বন্ধ থাকায় বাজারে কেজী প্রতি এখনো ৮৫ টাকা দরে পেয়াজ বিক্রি করছেন বিক্রেতা। আর নগরীর সুপার শপগুলোতে এখনো আগের দামে অর্থ্যাৎ ১শ থেকে ১১০ টাকা দরে পেয়াজ বিক্রি করতে দেখা যায়।
রাজগঞ্জ বাজারের মুদি দোকানী দোলোয়ার হোসেনসহ আরো অন্তত দশজন মুদি দোকানী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানী বন্ধ থাকায় বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিযানের পরেও প্রায় ৮৫ টাকা কেজী দরে পেয়াজ বিক্রি করছে বিক্রেতারা। দেলোয়ার হোসেন বলেন,আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই আমরা পাইকার থেকে পেয়াজ কিনতে হয় ৮০/৮২ টাকায় কিনে ৮৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়।
পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে নাম না প্রকাশ করার শর্তে চক বাজারের অনন্ত দশজন পাইকার জানান,আমাদেও যে পরিমান পেয়াজ মজুদ আছে তাতে অন্তত ১শ টাকা কেজী পেয়াজ বিক্রি করতে হয় না। এটা মূলত একটি সিন্ডিকেট ফায়দা লুটছে। এমন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হলে বাজারে পেয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে।
এদিকে নগরীর বাইরে সদরের জনতা বাজার,বুড়িচং সদরে চান্দিনা ও দেবিদ্বারে এখনো পেয়াজ ১শ থেকে ১১০ টাকা কেজী দরে পেয়াজ বিক্রি চলছে। সরেজমিনে বুড়িচং এর ফকিরবাজার এলাকায় বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১শ টাকা কেজী দরে অন্তত কুড়ি মন পেয়াজ বিক্রি হয়েছে। এক শ্রেনীর লোক হাটে বাজারে গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে যে আগামী দিন দুয়েকের মধ্যে পেয়াজের কেজী আরো বাড়বে। আর বিষয়টিকে গুরত্বসহকারে নিয়ে স্থানীয়রা বেশী করে বেশী দামে পেয়াজ কিনছেন।
পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম সহনীয় আনা প্রসঙ্গে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর বলেন, আমরা জেলা প্রশাসন থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। আজ তিনটি দোকানকে অতিরিক্ত দামে পেয়াজ বিক্রির অপরাধে সাড়ে ৮ হাজার জরিমানা আদায় করা হয়। ৭০ টাকার উর্ধ্বে কোথাও পেঁয়াজের দাম চোখে পড়ে নি। তবে পেয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে।

আরো পড়ুনঃ