কুমিল্লায় মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে বাণিজ্যিক ভবন নির্মান

93

আবদুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি।। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা সদরের বরুড়া বাজারে অবস্থিত কালি মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিনয় ভূষণ সাহার একক সিদ্ধান্তেই চলছে ৫ তলা বিশিষ্ট ওই বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণ কাজ। এছাড়া ভবন নির্মাণের জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দোকান দেওয়ার কথা বলে অগ্রিম হিসেবে ৫ থেকে ১৫ লাখ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এনিয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির অন্য সদস্যরাও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আর তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যেও।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, ব্যবসায়ী ও মন্দির পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, কালি মন্দিরে জায়গাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে পূজা-পার্বণের জন্য তৎকালীন জমিদাররা দান করে গেছেন। এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল সেখানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া আগে কালি মন্দির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ছোট ছোট ১১টি দোকানঘর ছিল। যা দিয়ে মন্দিরের পূজা, পুরোহিতদের বেতন ও অন্যান্য খরচ মিটানো হতো।

তবে বর্তমানে বিনয় ভূষণ সাহার নেতৃত্বে কমিটি এসে প্রথমে ওই ১১টি দোকানঘর উচ্ছেদের পরিকল্পনা করে। এরপর তাদেরকে নতুন করে দোকানঘর তুলে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করে ফেলে। কিন্তু বর্তমানে তাদেরকে কোনো জিজ্ঞাসা না করেই মোটা অংকের টাকা নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বিনয় ভূষণ সাহার একক সিদ্ধান্তেই। এতে উচ্ছেদ করা ওই দোকানগুলোর ব্যবসায়ীরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিনয় ভূষণ সাহার আগে একাধিক কমিটিও বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করে শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মুখে এগুতে পারেনি। তবে বর্তমান কমিটির সভাপতি বিনয় ভূষণ সাহা ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কাউকে না জানিয়ে নিজের সিদ্ধান্তেই বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন। ৫ তলা বিশিষ্ট ওই ভবনে প্রতি তলায় ১০টি করে অন্তত ৫০টি দোকান করছেন তিনি। এতে হিন্দুদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, কমিটি গঠনের সময় বিনয় ভূষণ সাহারা বলেছিলেন- তারা মন্দিরকে ঢেলে সাজিয়ে সুন্দর করে, সুষ্ঠুভাবে মন্দির পরিচালিত হতে পারে সেই ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু বর্তমানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের ফলে মন্দির সংকুচিত হয়ে পড়েছে। যার কারনে পূজা-পার্বণের ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যায় পড়তে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বর্তমান কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, পূর্বের দোকানীদের নতুন করে দোকান তুলে দেওয়া হবে এই আশ্বাসে দোকানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান কমিটির সভাপতি আমাদের কাউকে না জানিয়ে মন্দিরকে ছোট করে তৈরি করে তৈরি করছেন। আর বড় করে বহুতল বাণিজ্যিক তৈরির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নিচ্ছেন। আর দেবোত্তর সম্পত্তির ওপর এভাবে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করাও যায় না।

সভাপতি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভবনটি নির্মাণ করছেন। আর বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হবে। এক সময় এই অর্থই সর্বনাশ ঢেকে আনতে পারে। পান্তরে তিগ্রস্ত হবে মন্দিরের পূজা-পার্বন।

এদিকে, এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরুড়া বাজার কালি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিনয় ভূষণ সাহা বলেন, আমাদের মন্দির কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মনীন্দ্র কিশোর মজুমদারসহ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। আর কোনভাবেই মন্দিরকে সংকুচিত করা হয়নি, বরং আগের চেয়ে অনেক বড় করা হয়েছে। আর মন্দিরে ২শ’ জনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রেখেই অবশিষ্ট পরিত্যাক্ত জায়গার মধ্যে বাণিজ্যিক ভবন হচ্ছে। ব্যবয়ীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে দোকানের অগ্রিম হিসেবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আসা এসব অভিযোগ মোটেও সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।

তবে মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মনীন্দ্র কিশোর মজুমদার বলেন, তারা নতুন করে মন্দির নির্মাণ করছে। এজন্য অর্থের যোগান দিতে নতুন ভবন নির্মাণ করবে শুনেছি। তবে আমার সঙ্গে এসবের বিস্তারিত কোন আলোচনা হয়নি কমিটির। এসব বিষয়ে তারাই ভালো বলতে পারবেন। আপনি তাদের সঙ্গেই কথা বলুন।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.আনিসুল ইসলাম বলেন, আমি এই ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। কেউ অভিযোগ নিয়ে এলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!