কুমিল্লা নগরীতে সম্পত্তির বিরোধের জের ধরে প্রবাসীর উপর হামলা

স্টাফ রিপোর্টার।।

81

কুমিল্লা নগরীর হালিমানগর এলাকার নন্দনপুরে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী মনিরুল ইসলামের সাথে তারই বড় ভাই ফরিদ উদ্দিনের বিরোধের জের ধরে গত ১ জুলাই প্রবাসীর উপর হামলা চালিয়ে তার হাত ভেঙ্গে, ও কুপিয়ে আহত করেছি। এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো- নন্দনপুর এলাকার মৃত লাল মিয়ার পুত্র ফরিদ উদ্দিন (৫০) ও তার পুত্র ফরহাদ উদ্দিন তরুন (২৮)। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিনের পুত্র ফরহাদ উদ্দিন তরুন (২৮) কে গ্রেফতার করেছে। প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়ায় বর্তমানে ওই প্রবাসী পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়- হালিমানগর এলাকার নন্দনপুরে মৃত লাল মিয়ার পুত্র কুয়েত প্রবাসী মো: মনিরুল ইসলাম এর সাথে তার বড় ভাই ফরিদ ও ভাতিজা ফরহাদ এর পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। ছোট ভাই প্রবাসী মনিরুল ইসলামকে না জানিয়ে বড় ভাই ফরিদ পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে চাষাবাদ করে আসছে। ফরিদ উদ্দিনের সাথে মনিরুল ইসলামের নন্দপুর মৌজার বিএস দাগ নং-৩০ এওয়াজ বদল হয়। গত ১ জুলাই প্রবাসী মনির ওই এলাকার মাসুদ আলী আমিনকে নিয়ে তার সম্পত্তি বুঝিয়ে নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে ফরিদ উদ্দিন ও ফরহাদ হাতে ছেনি নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে তারা মনিরকে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে শরীরে বিভিন্ন স্থানে জখম করে। তখন মনির আত্মচিৎকার করলে তার ভাগিনা ফারুক হোসেন এগিয়ে গেয়ে মারধর বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুককে লক্ষ্য করে কোপ মারলে সে সরে গেলে প্রাণে রক্ষা পায়। ফরিদ প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মনিরকে ছেনি দিয়ে কোপ মেরে তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচের কবজির উপরে পড়ে মারাত্মক রগকাটা রক্তাক্ত জখম হয়।

এক পর্যায়ে ফরহাদ তার হাতে থাকা ছেনি দিয়ে বাম হাতে কনুইয়ের উপরে ও বাম পায়ের হাটুর নিচে পরপর ৩টি কোপ মেরে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম করে। তখন মনির ও ফারুকের আত্মচিৎকারে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ওই পিতা পুত্রের কবল থেকে রক্ষা পায় এবং তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা মনিরকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করে। পরে ঢাকা মেডিকেল থেকে চিকিৎসা থেকে বাড়িতে চলে আসে।

এ বিষয়ে মনিরুল ইসলামের মা সাংবাদিকদের জানান- আমার বড় পুত্র ফরিদ উদ্দিন আমাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে জায়গা সম্পত্তি লিখে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। আমার বড় পুত্র আমার বরণপোষণ কোন খোঁজ খবর নেয় না। ছোট ছেলের সম্পত্তি জোড়পূর্বক দখল করে রেখেছে। তিনি আরও বলেন- আমি বেঁচে আছি না মরে গেছি বড় ছেলে কোন খবর নেয় না। ছোট ছেলেই আমার দেখভাল করে।

এ বিষয়ে প্রবাসী মনিরুল ইসলাম বলেন- দীর্ঘদিন কুয়েত থাকা অবস্থায় অনেক টাকা আমি বড় ভাইয়ের নিকট পাওয়া হয়েছে। সে আমার টাকাগুলো ফেরত দিচ্ছে। আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভূয়া দলিল সৃজন করে নিজেই জোড়পূর্বক দখল করে রেখেছে। আমার মা’কে প্রলোভন দেখিয়ে উনার কাছ থেকে মিথ্যা কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে জায়গা বিক্রিসহ দখল করে রেখেছে। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন- জায়গা সম্পত্তির বিষয়ে কিছু বললে উল্টো আমার উপর হামলা চালায়। গত ১ জুলাই জায়গা বুঝিয়ে দেয়ার জন্য গেলে আমার বড় ভাই ও ভাতিজা মিলে আমার হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে। আমি বর্তমানে চলাফেরা করতে পারি না। আমি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সুদৃষ্টি কামনা করছি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!