কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রীতিলতা হল গেটে গিয়ে এককাপ চা- “কালিপদ দেবনাথের বিশেষ প্রতিবেদন’’

261

www.onnews24.com
সেখান থেকেই পরিকল্পনা হলো এইগহীনে আছে একটা ছড়া,চুঁইচুঁই করে জলঝরে।
কুমিল্লায় এমন ছড়া আছে অজানা ছিল,স্থানীয় লোকজনেরও তেমন জানা নেই।
আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম অজানাকেই জানতে হবে,অনেক আগে ছোটন বলেছিল বিষয়টা।
ছোটনকে ফোন করে কিছুটা জানা হলো,নান্টুর বাইকে চড়ে আমি আর বাবু চললাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনটা এমনিতেই আকর্ষণ করে,চারপাশ সবুজ নানা ফসলের আবাদ মনোমুগ্ধকর,মিনি খাগড়াছড়ি কিংবা রাঙামাটি লাগে।

লেখাপড়ায় ব্যস্থ দুই শিশু

বার্লির চাষ হয় বিস্তৃর্ণ ভূমি জুড়ে,আমি আগে ভাবতাম তা শিমুল তূলার চারা,না ইহা শিমুল তূলা নয়,বার্লির গাছ।
সেখান থেকেই বার্লির চাহিদা পূরণ হয় এইকুমিল্লার মানুষের।
আদা হলকা হলুদের সারিসারি বাগান,ফাঁকেফাঁকে আনারস মন ছুঁয়ে যায়।
ম্যাজিক প্যারাডাইস আর ডাইনোপার্ক পাড় হয়ে কিছুদূর গেলেই দুটো রাস্তা দুদিকে,একটি আদিনামূড়া পথ অন্যটি দিয়ে বরুড়া যায়।
আমাদের পথ ধরতে হবে বরুড়ার,রাজারথল বাজার।
একটি মসজিদ,জয়নাল নামে একজন থেকে জানতে চাইলাম উনি সুন্দরভাবে আমাদের রাস্তার বর্ণনা দিলেন।
বাইকে সামান্য যাওয়ার পর যেতে হবে হেঁটে,কিলতিনেক হাঁটলেই ছড়া।
এইদিকে লক্ষনীয় হলো আখের চাষ,ফসলের ক্ষেতে আখ গাছের মাথার উপর দিয়ে নীলাকাশ খুব মনোলোভা।
গ্রামের কাচারাস্তা,বালুময় পথ বাইল চালানো কষ্টকর কিন্তু এত সুন্দর রাস্তা কষ্টটা দূরে যায়।
দুপাশে বাঁশঝাড় মাঝখান দিয়ে ছায়াময় পথ,পাশদিয়ে বয়ে গেছে নালা।
এই নালাদিয়েই ছড়ার জল বর্ষাকালে গড়িয়ে আসে,পাহাড়ি ঢল হলে জল বয়ে নিয়ে আসে বড়খালগুলোয়,বন্যা হতে মুক্তি দেয়।
রাইয়ান আর নাসির নামে দুজনের দেখা, ওদের ঠিকানা জানতে চাইলে ওরা কি সুন্দর নিজেরাই পথ দেখাতে চললো।
একটু গেলেই ভাঙামূড়া।বাঁশঝাড় আর লালপাহাড়ে বাস কতগুলো পরিবার তা নিয়েই এইগ্রাম।দুটো বাবু বসে বসে আপন মনে স্কুলস্কুল খেলছে,আবার কতগুলো ছেলে কৌতূহলী হয়ে আমাদের চারপাশ ঘুরছে।
পাহাড় ধসে আছে ক্ষণেক্ষণে, দেখে তিনাপ সাইতারের পথের কথা মনে পড়লো।
গুড়িগুড়ি মাটির পিচ্ছিল সোজাপথ, কি ভয়ানক।একটু পা ফসকালেই হাজার তিনেক ফুঁট নীচে।
এইখানে এতনা তবুও মিল খোঁজে পাই।
ধ্বসে পড়া মাটিতে বাচ্চারা কি সুন্দর খেলছে,পার্কে কৃত্রিম যে খেলনা সেইটাই এইখানে প্রাকৃতিক।
নাসির আর রাইয়ানকে পেয়েখুব খুশি হলাম,স্থানীয় লোক এখন আর না মানুষের ভয় না সাপকোপের ভয়।
দুটোই শায়েস্তা করার জ্ঞান ওদের আছে।
নানা গল্প করতে করতে ওরা আমাদের পথ দেখিয়ে চলছে,ওদের বাড়ির সামনেই বাইক রাখা হল।
বাইকের বছর ব্যাপী থাকার নিরাপত্তা দিল।
ছড়ার পাশেই একটা টিপড়া পাড়া, চিড়া আর ভাত দিয়ে ওরা চুয়ানি বানায় শহর থেকে মানুষজন আসে তা পান করতে।
গতকালও ছেলে দুটো এক মদ্যপকে ধরে মাথায় চুয়ানি ঢেলে দিয়েছে,আজও দেখা মদ্যপের সাথে।
আমাদের দেখে ভয়ে দিল ভোঁদৌড়, দেখার মতো দৃশ্য।
ওদের ধারণা ছিল হয়তো আমরা প্রশাসনের লোক,ক্যামেরা হাতে বাবু ভাই, আমি সান গ্লাস পরিধান করে সেরকমই সাজলাম।
এইভাবে মজায় আর গল্পে গল্পে এক বাগানীর বাগানে ঢুকলাম।
বাগানী সেখানে নানফল আর সব্জিতে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেছেন,সেই সাম্রাজেই রাতেও বাস করেন।
সুখী মানুষ।

লালমাই পাহাড়ে পেপে বাগানে কিছু সময়

সুখী মানুষ থেকে খোঁজে লেবু, পেঁপে নিলাম।
গাছপাকা পেঁপে খেয়ে খুব তৃপ্ত আমরা,গল্প করে ভাল লাগলো।
এইবার ছড়ার আসল পথ গহীণে ঢুকলাম,নান্টু ও বাবু লাইভ করছেন,সংবাদের জন্য প্রতিবেদন করছেন।
লতাপাতা গাছাগাছালির ফাঁক গলে হাঁটছি,সিপ্পি পাহাড়ে চড়ার অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে গেল।
সিপ্পি যখন যাই তখন আমরা ছিলাম তৃতীয় কি চতুর্থ গ্রুপ,রাস্তা তখনো সৃষ্টি হয়নি।
রয়াল দা, দা দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে রাস্তা তৈরি করে নিয়ে যান।
বিশালবিশাল গাছের ফাঁক আর বেতের বন দিয়ে যাওয়া হয়েছিল,শরীরে বেতের দাগ পড়ে একাকার।
নতুন জিনিস দেখার একটা অন্যরকম অনুভুতি ছিল,এইখানেও তাই।
মিনিট বিশেক পর ছড়ায় আসলাম,ছোট করে একটা কুপ সদৃশ স্থানে জল জমা।
ছড়ার জল চুইয়ে তাতেই জমা হয়,এইস্থানটা পাথরের মতো শক্ত।
প্রচুর গাছগাছালি তাই ছড়াটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিলনা।
তবুও এইযে নতুন একটা জায়গায় গেলাম খুব আনন্দ।
নতুনকে জানাইতো আনন্দ,আনন্দেই বাঁচতে চাই।
ধন্যবাদ নান্টু ও বাবুকে, আবার নতুন কোন স্থানে আমাদের ভ্রমণ হবে, জানা হবে নতুনকে।

কালীপদ দেবনাথ।
প্রচার সম্পাদনা, জয়বাংলা ট্যুরস এন্ড ট্রাভেল।

 

দুই সংবাদকর্মীর সাথে প্রতিবেদকের সেলফী
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!