কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অসহায় দিলদারের স্বপ্ন পুরণের দায়িত্ব নিল উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদ

অনলাইন ডেক্স।।

244
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছেন আইন পড়ার। চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট হয়েও সংসারে আর্থিককষ্ট ও টানাপোড়েনের কারনে কাজে নেমে পরেন ছোটবেলাতেই। তারপরও বাবা আমেরুল ইসলামের অনুপ্রেরণায় পড়াশুনা চালিয়ে যান তিনি, স্বপ্ন ছিল আইন পড়ার।
ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাংগার রত্নাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করা দিলদার ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে টাইলসের কাজ করে পড়াশুনা ও সংসার চালিয়েছেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের পাঁচটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি হবার সুযোগ পান এই মেধাবী। তবে আইন নিয়ে পড়াশুনার প্রবল আগ্রহ থাকায় অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটে ৩০ তম হয়ে আইন বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান দিলদার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারছিলেন না দিলদার। পরবর্তীতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক সংগঠন উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদের সহায়তায় ভর্তি হন তিনি। বুধবার(০৪ ডিসেম্বর) ভর্তিবাবদ ও প্রথম তিন মাস খরচ মেটানোর জন্য হাতে তুলে দেয়া হয় ২৫৩০০ টাকা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ সংগঠনটির উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ হাবিবুর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ রশিদুল ইসলাম শেখ, প্রত্নতত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদেকুজ্জামান তনু, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ রুহুল আমীন, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
জানা যায়, কুমিল্লাস্থ উত্তরের জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সমিতির পক্ষ থেকে দিলদারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এবং ভর্তি পরবর্তী দিলদারের যেকোনো সহযোগীতায় পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদের সভাপতি মোঃ সফিউর রহমান সাগর এ প্রসঙ্গে বলেন “দিলদার দরিদ্র পরিবারের সন্তান।যেখানে তার পরিবারের পক্ষে তিনবেলা খাবার জোটানো কষ্টসাধ্য সেখানে ভর্তি ছিল প্রায় অনিশ্চিত।পরবর্তীতে তার বিষয়টি আমাদের পরিষদের উপদেষ্টামন্ডলীদের জানানো হলে তারা ভর্তি সহযোগীতায় এগিয়ে আসেন।”
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তন্ময় কুমার সরকার বলেন “উত্তরবঙ্গ থেকে এতদুর এসে শুধুমাত্র টাকার জন্য একজন মেধাবীর পথচলা থেমে যাবে সেটা আমরা চাইনি, তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি সেই সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা শুরু থেকে পাশে ছিলেন।”
এ দিকে দিলদারের আর্থিক দিক বিবেচনায় নির্বিঘ্নে তার পড়াশোনা শেষ করার জন্য যাবতীয় খরচ বহন করার পরিকল্পনা করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরবঙ্গ ছাত্র পরিষদ।
দিলদার তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন “কুমিল্লা আসার আগে আমার জীবনে যে অনিশ্চয়তা ছিল, সংগঠনের বড়ভাইদের পেয়ে সেটা কেটে গেছে” সে ভবিষ্যতে বিচারক হয়ে দেশের সেবা করতে চায়।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!