কুমিল্লা শেখ কামাল ক্রীড়াপল্লি নিয়ে স্বপ্ন দেখছে

কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

14

কুমিল্লার ক্রীড়াকেন্দ্র শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে বছরজুড়ে চলে টুর্নামেন্ট। একের পর এক আসরের ফাঁকে অনুশীলনের জায়গা পান না স্থানীয় খেলোয়াড়েরা। একরকম বাধ্য হয়েই তাদের অনুশীলন করতে হতো কেন্দ্রীয় ঈদগাহের পাকা মেঝেতে।

তরুণ ক্রীড়াবিদদের মাঠ ও অনুশীলনের স্থান-সংকটের সমাধান হিসেবে এই একাডেমির পরিকল্পনা করেছে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা।শহরের অদূরে গোমতী নদীর চরে ৩ ফেব্রুয়ারি ক্রীড়াপল্লির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা সদর আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার।

অবশেষে কুমিল্লার অগনিত ক্রীড়াবিদের কাছে আশার আলো হয়ে এসেছে শেখ কামাল ক্রীড়াপল্লি। তরুণ ক্রীড়াবিদদের মাঠ ও অনুশীলনের স্থান-সংকটের সমাধান হিসেবে এই একাডেমির পরিকল্পনা করেছে কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থা।

শেখ কামাল ক্রীড়াপল্লি পরিকল্পনামাফিক গড়ে উঠলে জেলার ক্রীড়ায় ব্যাপক উন্নয়ন ও খেলাধুলার হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় খেলোয়াড়, কোচ ও সংগঠকেরা।

অনুশীলনের নতুন জায়গা তরুণদের আরও উৎসাহিত করবে উল্লেখ করে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটার রাসেল আল মামুন বলেন, ‘অনুশীলনের জন্য চমৎকার একটি জায়গা পেয়েছি। আশা করি, কুমিল্লার ক্রিকেটারদের এটি জাতীয়ভাবে ভালো করতে সাহায্য করবে।’

জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরফানুল হক রিফাতের আশা ক্রীড়াপল্লির কারণে স্থানীয় ফুটবলেও আসবে পরিবর্তন। তিনি বলেন, ‘বিবিরবাজার ছাড়া ফুটবলারদের অনুশীলনের সুযোগ নেই। তবে ক্রীড়াপল্লি হয়ে গেলে ফুটবলে একটা ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।’

নতুন এই ক্রীড়াপল্লিকে জেলাবাসীর জন্য গৌরবের মন্তব্য করে জেলা ক্রিকেট কমিটি ও আবাহনী ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম রনি বলেন, ‘মাঠের অপ্রতুলতার জন্য এত দিন কুমিল্লার ক্রিকেট এগোতে পারেনি। আশা করছি, অনুশীলনের জায়গা হওয়াতে ক্রিকেটে একটা বিপ্লব শুরু হবে। যার সুফল আমরা পাব বাংলাদেশ জাতীয় দলে।’শেখ কামাল ক্রীড়াপল্লি নিয়ে স্বপ্ন দেখছে কুমিল্লা

একাডেমিটি শহর থেকে দূরে হওয়াতে কিশোর খেলোয়াড়দের নিরাপত্তায় জোর দেওয়ার দাবি বিসিবির সাবেক ম্যানেজার বদরুল হুদার। তিনি বলেন, ‘জায়গাটি শহর লাগোয়া। একটু নিরিবিলি। আশা করি, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবে কর্তৃপক্ষ।’

ক্রীড়াপল্লির কাজ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনের আশায় বুক বেঁধেছেন কুমিল্লার সর্বস্তরের জনগণ। তাদেরকে আশার বাণী শোনালেন জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর। এরই মধ্যে কিছু অংশ খুলে দেওয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের জন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ক্রীড়াপল্লিটি উন্মুক্ত করেছি। শিশু-কিশোররা প্রতিদিনই খেলাধুলা করছে। তবে ধীরে ধীরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ হবে।’

কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ক্রীড়াপল্লিকে ব্যস্ত রাখার পরামর্শ সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও বোলিং কোচ ফয়সাল হোসেনের। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ক্রীড়াপল্লি গড়লেই হবে না। এটাকে যথাযথ ব্যবহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব সময় সচেতন থাকতে হবে। নয়তো নামেমাত্র হয়ে পড়বে ক্রীড়াপল্লি।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক নিউজবাংলাকে জানান ক্রীড়াপল্লির পরিকল্পনা এক যুগেরও বেশি পুরোনো। ২০০৮ সালে এই ক্রীড়াপল্লির প্রস্তাবনা দেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথাও জায়গা পাচ্ছিলাম না। পরে ২০১৭ সালে কুমিল্লায় জেলা প্রশাসক গোমতী নদীর চরে সরকারি জায়গা অধিগ্রহণ করে দেন। স্পোর্টস একাডেমি বিকেএসপির আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে।’

১০ একর আয়তনের এই ক্রীড়াপল্লিতে থাকছে একটি করে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকির মাঠ। পাশে মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ড। রয়েছে শিশুদের জন্য খেলার জায়গাও।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!