কুষ্টিয়ার ৩ উপজেলায় ডুবে গেছে ২ হাজার হেক্টর জমির মাসকলাইসহ অন্যান্য ফসল

48

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, ভেড়ামারা ও মিরপুর উপজেলায় পদ্মা নদীতে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। বিলম্বিত আকষ্মিক এ বন্যায় কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয়রা কৃষকরা। গত ৪-৫ দিন ধরে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অচিরেই চরাঞ্চলের ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাবে বলে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
মঙ্গলবার বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আকস্মিক পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের মাসকলাইয়ের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলা ১২ মাইল, ১০ মাইল, ঢাকা পাড়া ও মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া, তালবাড়িয়া ও কাচারী।

চরাঞ্চলের মাঠগুলো গত এক সপ্তাহ আগেও যেখানে সবুজ মাসকলাই ফসলে পরিপূর্ণ ছিল। গত কয়েক দিনের বন্যার পানিতে তলিয়ে তা সমতলে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় তলিয়ে গেছে সব ফসল। তলিয়ে যাওয়া ফসলের অধিকাংশই মাসকলাইয়েল ক্ষেত। কিছু জমিতে রয়েছে বীজ পাট ও আমন ধান। সেগুলোও নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির অব্যাহত থাকলে এখনও যেসব জমিতে পানি ঢুকেনি সেগুলোও তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান, প্রতি বছর পদ্মায় বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলেও মাসকলাই চাষের আগেই পানি নেমে যায়। ফলে কৃষকরা চরাঞ্চলে ব্যাপক ভাবে মাস কলাইয়ের চাষ করে থাকেন এবং সারা বছরের আর্থিক চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। কিন্তু এ বছর তেমন বন্যা না হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে মাসকলাই চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দৌলতপুরে ২হাজার ৫৫০হেক্টর জমিতে মাসকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও। লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৬৫ ভাগ মাসকলাই চাষ হয় চরাঞ্চলের চার ইউনিয়নে। গত চার-পাঁচ দিনে পদ্মার পানি আকস্মিক বৃদ্ধিতে জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে রাকমকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫’শ হেক্টরসহ অন্য তিন ইউনিয়ন মিলিয়ে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির মাসকলাই পানিতে তলিয়ে গেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত এলাকার কৃষক মোমেন জানান, এ বছর তেমন বন্যা না হওয়ায় চরের ২০বিঘা জমিতে আগাম মাসকলাই করেছিলেন। ফসলও ভাল হয়েছিল। কিন্তু গত চার পাঁচ দিনে পদ্মার পানি হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়ায় সকল জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, আকষ্মিকভাবে পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে তার ইউনিয়নের প্রায় ৩হাজার কৃষকের ৫’শ হেক্টর জমির মাসকলাই তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখীন হয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

ফসল  এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম কামরুজ্জামান বলেন, দৌলতপুরের অধিকাংশ মাসকলাই চরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়। গত চার পাঁচ দিনে উজান থেকে নেমে আসা আকস্মিকভাবে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের নিম্নাঞ্চলের জমিগুলো তলিয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন মাস কলাইয়ের গাছের ভরা যৌবন কাল। কয়েকদিন পরেই গাছে ফুল ও ফল আসবে। কিন্তু অসময়ে পদ্মার

আরো পড়ুনঃ