কুষ্টিয়ায় ডাক্তার সেজে প্রসূতির অপারেশন; হাতেনাতে ধরা ওয়ার্ডবয়

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।

111
কুষ্টিয়া সদর থেকে ভালো ডাক্তার এনে অপারেশন করার নামে ডাক্তার সেজে প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করছিলেন ওয়ার্ডবয় ও ভুয়া নার্স। অপারেশন থিয়েটার প্রস্তত, নেয়া হয় প্রসূতিকে। ভেতরে চলছে সিজারিয়ান অপারেশন। এ সময় গোপনে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। হাতেনাতে ধরেন তিনি। এরপর ওই ওয়ার্ডবয়কে কারাদন্ড এবং ভুয়া নার্স ও কিনিক মালিককে জরিমানা করে কিনিকটি সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার রাতে খোকসার আইডিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
প্রসূতির পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সন্তানসম্ভাবা শ্রাবন্তীর (২৬) প্রসব বেদনা উঠলে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক সিনিয়র স্টাফ নার্স ও স্থানীয় এক দালালের খপ্পরে পড়ে বৃহস্পতিবার তাকে স্থানীয় আইডিয়াল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ সময় জেলা সদর থেকে ডাক্তার আসছে বলে কিনিক মালিক ওই নারীর পরিবারকে জানায়। রাত ৯টার দিকে ওই নারীর প্রসব বেদনা বাড়লে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে কিনিকের ওয়ার্ডবয় নোমান (৩০) ও ভুয়া নার্স রেশমা (২২) প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন শুরু করেন।
এ সময় গোপনে খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল কিনিকের অভিযান চালায়। দলটি অপারেশনরত ওয়ার্ডবয় নোমান ও ভুয়া নার্স রেশমাকে আটক করে তাদের কাছে বৈধ কাগজ দেখতে চায়। কিন্তু কিনিক মালিক কাইসারুল আলম সৌদসহ অন্যরা তাদের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওয়ার্ডবয় নোয়াবকে ২০ দিনের কারাদন্ড ও ভুয়া নার্স রেশমাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে কিনিক মালিককে একলাখ টাকা জরিমানাসহ কিনিকটি সিলগালা করে দেন আদালত। রাতেই কিনিক ফাঁকা করে সিজারিয়ান অপারেশন হওয়া শ্রাবন্তী ও শাপলা নামের অপর এক প্রসূতি ও দুই নবজাতকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বাকি দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরো পড়ুনঃ