কুষ্টিয়ায় বন্যাকবলিত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

58

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।

  কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যার পানি কমলেও বেড়েছে মানুষের দূর্ভোগ। পানিবন্দী মানুষের ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও কাদা-পানির মধ্যে বসবাস করছেন তারা। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ঘর-বাড়ি সংস্কারের পাশাপাশি কৃষিকাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন অনেক কৃষক। দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৬টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়ে ১৫ হাজার পরিবার। প্রায় ৫হাজার পরিবার কোমর ও হাটুর পানির মধ্যে অবস্থান নেয়। চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ডিঙি’র ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন পানিবন্দী মানুষগুলো। গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যার পানি কমতে থাকায় বন্যাকবলিত পানিবন্দী মানুষগুলো নতুন করে দূর্ভোগে পড়েন। কাদা-পানির মধ্যে কষ্টে বসবাসের পাশাপাশি দূর্বিসহ জীবন যাপন চলছে বন্যা কবলিতদের।

এদিকে বন্যার পানি কমতে থাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, বন্যার পানি কমেছে। ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমেছে। তবে নতুন করে বন্যাকবলিত মানুষগুলোর দূর্ভোগ বেড়েছে। কাদা-পানির মধ্যে এখন তাদের বসবাস করতে হচ্ছে। পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে না পড়লেও দুই একজন করে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানাগেছে। তবে তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কৃষি আবাদী জমি থেকে পানি নেমে চাষযোগ্য হলেও কৃষকরা নতুন করে কৃষিকাজে ব্যস্ত হবেন সে দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
চিলমারী ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, বন্যার পানি কমতে থাকায় কৃষি নির্ভর চিলমারীবাসী নতুন উদ্যোমে কৃষি কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এবারের বন্যায় উঠতি ফসলসহ বাড়ি-ঘরের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সরকারী সহায়তা তা পুরণ করা সম্ভব নয়।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বন্যা কবলিত এলাকার ক্ষতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এবারের বন্যায় রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নে প্রায় ১২ কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে। অন্যান্য ক্ষতি হয়েছে ১০ লক্ষাধিক টাকার। বন্যার পানি কমছে। এখন বন্যাকবলিত বিশেষ করে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের মানুষের পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে সেজন্য একটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষনিক কাজ করছে।
উল্লেখ্য এবারের বন্যায় দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ৩৬টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়। বন্যাকবলিত ৪ ইউনিয়নের ক্ষতি হয় প্রায় ১৫’শ হেক্টর জমির মাসকলাইসহ বিভিন্ন ধরণের ফসলের। কৃষকদের অর্থকরী ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা পরবর্তী সময়ের আর্থিক চাহিদা কিভাবে মিটাবে তা নিয়ে রয়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়। এজন্য ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সরকারী কৃষি প্রনোদনাসহ সবধরণের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ