কুড়িগ্রামে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

60

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।। কুড়িগ্রামে নুরন্নবী হলোখানা নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নুরন্নবী সরকার (হিরোইন নুরন্নবী) এর বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা জাফর আলী ও দছিম উদ্দিন। এছাড়াও অভিযোগ করেন প্রতারণার স্বীকার চাকুরী প্রার্থী কাকলী বেগম ও সাদ্দাম হোসেন।

অভিযোগে জানা যায়, এ বিদ্যালয়ের একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগে ১৫ লাখ টাকা উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তার নিকট আত্মিয় আল আমিনকে। এজন্য গোপনে সাজানো নিয়োগ পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সোমবার কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয় সংগোপনে। ১০জন প্রার্থীর মধ্যে সাদ্দাম হোসেনকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি। তিন দিন আগে প্রবেশপত্র দেয়ার নিয়ম থাকলেও কাকলী বেগমকে দেয়া হয় রোববার বিকালে। ফলে সাজানো নিয়োগ পরীক্ষার তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। চাকুরী প্রার্থী ও স্কুলের দু’জমিদাতা ব্যক্তি অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জাল-জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরে সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অভিযোগের কথা জানান।

জমিদাতা দছিম উদ্দিন বলেন, তিনি এ বিদ্যালয়ে ৫২শতক জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। এই জমির ৩০শতক জমি জালিয়াতীর মাধ্যমে নুরন্নবী সরকার নিজ নামে করে নেয়। পরে ঐ জমি বিদ্যালয়ে দান দেখিয়ে দাতা সদস্য হয়ে বিদ্যালয়ের নাম নিজ নামে করে নেয়। এরপরও তার মেয়ে কাকলি বেগমকে চাকুরী দেয়ার নাম করে ৬লাখ টাকা উৎকোচ নেয়। পরে আরো ৬লাখ টাকা দাবি করে দিতে না পারায় করোনা পরিস্থতির পূর্বে ২দফা নিয়োগ বোর্ড গঠন করার পরও অদৃশ্য কারণে তা স্থগিত করে দেয়। এবার তার নিকট আত্মিয় আল আমিনকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের জন্য ১৫ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। এই অবৈধ নিয়োগ বৈধ করতে কয়েকজন প্রার্থীকে প্রবেশপত্র পরীক্ষার একদিন আগে দিয়ে গোপনে নিয়োগ বাণিজ্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

অপর জমি দাদা জাফর আলী জানান, তিনি এই স্কুলে ৫০শতক জমি দান করলেও জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে দাতা সদস্য রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি কুড়িগ্রাম জজ আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটি বিচারাধিন। এরইমধ্যে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এর আগেও নুরন্নবী সরকার (হিরোইন নুরন্নবী) সহকারী শিক্ষক, অফিস সহকারী ও পিয়ন পদে লোক নিয়োগ করেন উৎকোচ বাণিজ্যের মাধ্যমে।

নিয়োগ বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি এবং কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোখসানা পারভীন বলেন, এরকম অভিযোগ শুনেছি। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষর্য়ে বিস্তারিত আমি কিছুই জানিনা। শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ময়নুই ইসলাম এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাজ্জাদ হোসেনকে ইতোমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন এ ধরণের একটি অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!