কেশবপুর পৌর নির্বাচনে আবারো ঘুরে দাড়াবে রফিকুল

শান্তনু হাসান খান।।

81

যশোর জেলার সদর, নোয়াপাড়া, মনিরামপুর, বাঘারপাড়া, চৌগাছা আর কেশবপুর পৌরসভার নির্বাচন ডিসেম্বরেই সম্ভাবনা বেশী। এ বিষয়ে স্থানীয় মাঠ প্রশাসনকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে এবার ব্যালটে নয়-ইভিএম পদ্ধতিতে। ২০০৩ সালে কেশবপুর পৌরসভা স্থাপিত হওয়ার পরে ২ মেয়াদে আব্দুস সামাদ বিশ^াস দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ২০০৩ এর মার্চ মাসের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল আর ২০০৫ এ প্রথম নির্বাচন। দ্বিতীয় নির্বাচন ২০১১ তে। আর সর্বশেষ ২০১৫ তে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে রফিকুল ইসলাম মেয়র নির্বাচিত হয়ে আজ অব্দি বহাল রয়েছেন। ১৯৯৮ সালে গেজেট হবার পর আব্দুস সামাদ বিশ^াস ১ টি মামলা দায়ের করেন। ওতে আরজিতে বলা হয়- কেশবপুর পৌরসভার গঠনের যোগ্যতা রাখে না। দীর্ঘ সূত্রিতার পর পৌর প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তাকে।

পরে ঐ মামলা দায়ের করা ব্যাক্তি আব্দুস সামাদ বিশ^াস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর বর্তমানে রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত সততার মধ্য দিয়ে কেশবপুর পৌরসভাকে ঢেলে সাজিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামীতে পৌর নির্বাচনে আমি থাকবো ইনশাআল্লাহ্ । তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি তথা, আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার অতীতের কর্মকান্ড আর এলাকার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে দলীয় ভাবে নমিনেটেড করবেন- সেই বিশ^াসটুকু আমার রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম কেশবপুর পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ভোটার। বেড়ে উঠেছেন এই জনপদে। পড়াশোনা এখানেই শুরু। পরে অনার্স সহ মাষ্টার্সা শেষ করেছেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে। ছাত্র অবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধু আদর্শের দল- ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। এরপর উপজেলা ছাত্রলীগের নেত্রীত্ব দেন। ১৯৯১ তে উপজেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আর বর্তমানে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। সারা জীবন স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে আওয়ামী ঘরনার রাজনীতি করে আসছেন। তিনি বলেন, কেশবপুর এমনিতেই জামাত-বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা। সেই দাপটের মাঝে আমরা ঘুড়ে দাড়িয়েছি। মেয়র বলেন ১ টি প্রথম শ্রেনীর উপজেলা ভিত্তিক পৌরসভার উন্নয়নে সকল প্রতিকূলতার মধ্যে একে নান্দনিক করে তুলতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এলাকার মানুষদের নিম্মতম চাহিদা পূরণে এখানকার ড্রেনেজ সিস্টেম, ষ্ট্রিট লাইট আর সুপেয় পানি ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। বাজেট আর বরাদ্দের উপর নির্ভর করে, আমার স্থানীয় এমপি শাহিন চাকলাদারের দিক নির্দেশনায় আর পৃষ্টপোষকতার মধ্য থেকেই আমি জনগণের সেবা করে আসছি দীর্ঘ ৫ টি বছর। এখানে কোন অনিয়মের খবর নেই। আগামীতে নির্বাচিত হলে কেশবপুর পৌরসভাকে একটি নিরাপদ- বাসযোগ্য মাঝারি অবকাঠোমো সমৃদ্ধ জনপদ নির্মাণে প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে। রফিকুল বলেন, সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হলে এখানকার যেকোনো প্রার্থীকে ডিঙিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারবো। আর নির্বাচিত হলে এখানকার পুঞ্জীভূত সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে কেশবপুর পৌরসভাকে ঢেলে সাজাবো।

এদিকে করোনা ভাইরাস প্রভাবের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতি ডিসেম্বরে সারাদেশে প্রায় ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট করার জন্য কমিশন অনুমতি দিয়েছে। পৌরসভা ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আর এসব ভোট হবে ৫ ধাপে এবং ইভিএম পদ্ধতিতে। বর্তমান পরিষদের মেয়র, নির্বাচন আয়োজনে কোনো জটিলতা আছে কি না এসব সার্বিক তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর গতবারের মতো এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে। মেয়র এইচ.এস.সি. পাশ হতে হবে ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এস.এস.সি. পাশ হতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর ছড়ালেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে মাত্র। সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রæয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর গতবারের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন হবে। মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধ্যতামূলক নয়।

রফিকুল বলেন, আল্লাহ আমাকে কামিয়াব করলে এখানকার পুঞ্জিভুত সমস্যা নিরসন সহ ড্যাম্পিং ষ্টেশন নির্মানের মধ্যে দিয়ে কেশবপুর পৌরসভাকে পরিচ্ছন্ন নগরায়ন করে তুলবো আর এলাকায় চিত্ত বিনোদনের জন্য একটি শিশু পার্ক নির্মাণ করার ইচ্ছা রাখি, আর পাশাপাশি মধু পল্লীকে ঘিরে পর্যটন ক্ষেত্রে আরো প্রসার ঘটাবার চেষ্টা থাকবে। তিনি বলেন, এলাকার দুঃস্থ মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে- আমার পৌরসভার ইপিআই কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে। সবকিছুই হবে পৌরসভার বাজেট আর বরাদ্দের উপর নির্ভর করে। আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমি যতটুকু পারি জনগনের পাশে থাকবো। অতীতে যেমন তাদের সুখে দুঃখে ছিলাম, এখনও আছি। তিনি বলেন, মাদক সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ উন্নয়নের বাধাগ্রস্ত হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমি অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি আর এসব বিষয়ে আমাকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন আমার স্থানীয় সাংসদ।

কেশবপুর এমনিতেই আলোকিত জনপদ। ইতিহাস আর ঐতিহ্য লালন করে আসছে অবিভক্ত বাংলায়। সাহিত্যিক ধীরাজ ভট্টাচার্য ও মাইকেল মধূসুধনের বাস ভ’মি ছাড়াও এখানে অনেক গুনি ব্যাক্তিদের পদচারন ছিল। এখানকার মধুপল্লীকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক বাস্তবমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে কেশবপুর আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি মানুষদের কর্মসংস্থান সহ রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে দলীয় ভাবে একক প্রার্থীর নাম- শুধু মাত্র বর্তমান মেয়র কে ঘিরে। আারো একজন এডভোকেট মিলন মিত্র দলীয় ভাবে প্রার্থীতা চাইতে পারেন। তবে বিএনপি থেকে সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ^াস বলেন দলের হাই কমান্ড যদি দরীয় ভাবে করতে বলেন তাহলে আমি আছি। এদিকে জামাত, জাতীয় পার্টি আর জাসদের তেমন কোন প্রার্থী নেই। মাঠে শুধু আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম আর বিএনপির সামাদ বিশ^াস। এখানে ৯টি ওয়ার্ডের বর্তমান ভোটার ২০ হাজার ৭শত। তার মাঝে ১৮% নবীন ও তরুণ ভোটররা আগামীতে পৌর নির্বাচনে মেয়র রফিকুল ইসলাম কে পুনরায় নির্বাচিত করতে তার পিছনে একাট্টা। সাধারণ মানুষরা বলছেন, উন্নয়নের ধারবাহিকতা রক্ষা করতে রফিকুল ইসলাম মোড়লের বিকল্প আর কেউ নেই আপাতত।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!