ঘুস না পেয়ে ১৮ বছরের ইজারা বাতিল, ফেনীর পাউবো’র দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি।।

5

দাবিকৃত এক লাখ টাকা ঘুস না পেয়ে ১৮ বছরের ইজারা বাতিলের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ক্ষতিগ্রস্ত মো. নূরুল আলম ভূঞা তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি, ইজারা বহাল ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে মঙ্গলবার দুদক চেয়ারম্যান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহা পরিচালক ও ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর সহকারি পরিচালক (এডি) মো. জহির উদ্দিন ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মো. নূরনবীর বিরুদ্ধে ডাকযোগে তিনি এই অভিযোগ গুলো প্রেরণ করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মো. নূরুল আলম ভূঞা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড অধিগ্রহনকৃত সোনাপুর মৌজায় এল.এ কেইস নং-৬৬/৬৫-৬৬ এর অনুকূলে ২০০২ সালে ডিএস-৩৯২৭ ও দিয়ারা-৪০৬৫দাগে মাছ চাষ ও দোকান ঘরের জন্য ১১ শতক জমি তার নামে ইজারা প্রদান করেন। ১৮ বছর যাবৎ তিনি নিয়মিত রাজস্ব প্রদানও করেছেন।

সর্বশেষ মাছ চাষের জলাশয়ের আট শতক জমির ২০২০ সালের ১ এপ্রিল তার ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি তিনি মাছ চাষ জলাশয়ের ইজারা নবায়নের আবেদন করেন। দোকান ঘরের তিন শতক জমির ইজারার মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর। সেটি নবায়নের জন্য আবেদন করেন ২০১৭ সালের ৩ অক্টোবর।

২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভায় তার নামে ২.৫০ শতক জমি ইজারা নবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পাউবো কর্তৃপক্ষ তাকে ব্যাংকে সরকারি রাজস্বের টাকা অর্থাৎ ইজারার সমুদয় টাকা জমা দেয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন।

নোটিশের আলোকে তিনি ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ সোনালী ব্যাংক সোনাগাজী শাখায় সমদয় টাকা জমা দেন। টাকাগুলো ব্যাংকে জমা দেয়ার পর সহকারি পরিচালক (এডি) জহির উদ্দিন ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মো. নূরনবী তার কাছে ১ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন।

তিনি তাদের দাবিকৃত ঘুস দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকে জমাকৃত ইজারার সমুদয় টাকা তুলে নিতে তাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি ব্যাংক থেকে টাকাগুলো তুলে নেন। তার দখলে থাকা ১১ শতকের মধ্যে বিলকিছ আক্তারের নামে পাঁচ শতক ও নিজাম উদ্দিনের নামে আধা শতক (০.০৫শতক) সহ সাড়ে পাঁচ শতকক জমি ইজারা দেন।

তারা ইজারা পেয়ে তার টয়লেট ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন প্রজাতির ছোট ও মাঝারি ধরণের প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ কেটে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া ওই দুই কর্মকর্তা প্রতিহিংসা বশত তার দখলে থাকা দোকান ঘরটি ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে ভাংচুর করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন। এ ব্যপারে তিনি চলতি বছরের ২২ফেব্রুয়ারি ও ২২ এপ্রিল পাউবো ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট আবেদন করেন।

এই আবেদনের পর দুই কর্মকর্তা তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য অব্যাহত হুমকি দিতে থাকেন। তাতে কোন প্রতিকার না পেয়ে তিনি ফের দুদক সহ সরকারি বিভিন্ন দফতরে লিখিত আবেদন করেছেন।বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজনের ব্যবহৃত দুটি মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং আরেকজনকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!