চরফ্যাসনে ঘাসের সাথে বিষ মিশিয়ে ৫টি গরু মারার অভিযোগ

এম. মাহাবুবুর রহমান নাজমুল, চরফ্যাসন (ভোলা) প্রতিনিধি।।

109
চরফ্যাসনের শশীভূষণ থানার চরকলমী ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ঘাসের সঙ্গে কিটনাশক মিশিয়ে প্রতিপক্ষের ৫টি গরু মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি থানায় অভিযোগ করে পুলিশের সহায়তার পরিবর্তে উল্টো ধমক খেয়েছেন। পুলিশের সহায়তা না পেয়ে অবশেষে গতকাল রবিবার চরফ্যাসন প্রেসক্লাব এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, চরফ্যাসন শাখায় এমন অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবাটির পক্ষে গৃহকর্তী কহিনুর বেগম।
চরকলমী ইউনিয়নের মেঘভাষান স্লুইজ এলাকার জাফর মাতাব্বরের স্ত্রী কহিনুর বেগম লিখিত অভিযোগে জানান, তার ভাসুরের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং তার ছেলে শাহীন তাদের ওয়ারিশি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। এনিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ চলছে। বুধবার বিকেলে শাহীনদের বসত ঘরের সামনে কহিনুরদের গোয়াল ঘরে মাটির পাত্রে ৬টি গরুকে ঘাঁস দিয়ে তারা ঘরে গেলে পুর্ব বিরোধের জের ধরে ভাসুরের ছেলে শাহীন ঘাঁসের সঙ্গে কিটনাশক মিশিয়ে দেয়। ওই ঘাঁস খেয়ে আধা ঘন্টার মধ্যে একে একে ৫টি গরু মারা যায়। ঘটনার পরদিন শশীভূষণ থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করলে ওসি মনিরুল ইসলাম মামলার খরচ বাবত তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মামলা না নিয়ে পুলিশ তাদের সাথে অভিযুক্তকে আটকের নামে তালবাহানা শুরু করেন। তিন দিনেও পুলিশ এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গতকাল রবিবার থানায় এসে এর কারণ জানতে চান কহিনুর। এসময় থানার উপ-পরিদর্শক রাজিব তার সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ করেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গরু মারার মামলা হয়না জানিয়ে মামলার খরচ বাবত নেয়া পাঁচ হাজার টাকা ওসি মনিরুল ইসলাম ফেরত দিয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন কহিনুর বেগম ।
অভিযুক্ত শাহীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তার ভগ্নিপতি মো.নুরনবী জানান,একসাথে এতগুলো গরু মারা যাওয়ার কারণ বুঝলাম না।
শশীভূষণ থানা ওসি মো.মনিরুল ইসলাম মামলার খরচ বাবত পাঁচ হাজার টাকা নেয়া এবং ফেরত দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, গরুর মারার ঘটনায় মামলা হয় না। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সাধারণ ডাইরী করেছি। এবিষয়ে উপ-পরিদর্শক রাজিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি।
আরো পড়ুনঃ