চান্দিনার মাধাইয়ার চেয়ারম্যান প্রার্থী আলী আশ্রাফের প্রিয়ভাজন হাজী ওয়াদুদ

69

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)
করোনা ভাইরাসের প্রভাবের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতি মধ্যেই নির্বাচন কমিশন সমাপ্ত করেছেন। মার্চ থেকে শুরু করে জুন মাসের শেষ নাগাদ ধারাবাহিক ভাবে গত বারের মত ৫ ধাপে নির্বাচন শেষ করতে চান স্থানীয় মাঠ প্রশাসন। দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান। ২০১৬ সালে ২২ শে মার্চ শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন সমাপ্ত করে সরকার। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন পূর্বে পরবর্তী পরিষদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে। আর সেই আলোকে কুমিল্লা ১৮ টি উপজেলার ৩১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই কুমিল্লার মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সি.ই.সি। এর মধ্যে লাকসাম উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ, মনোহরগঞ্জের ১১ টি ইউনিয়ন ও চান্দিনার ১৩টি ইউপি অন্যতম।

সে আলোকে চান্দিনার গুরুত্বপুর্ন ইউনিয়ন-মাধাইয়া। এখানে বর্তমানে মোঃ অহিদ উল্লাহ নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থিতা চাইবেন। এছাড়া ও আরো আছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক হাজী আব্দুল ওয়াদুদ। দীর্ঘদিন ছাত্র লীগ ও যুবলীগের রাজনীতি করার সুবাদে স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক আলী আশ্রাফের পৃষ্টপোষকতায় আওয়ামী রাজনীতি করছেন। এলাকার অনেক উন্নয়ন কাজে তিনি সম্পৃক্ত থেকেছেন ফলে জনগন এবার তাকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন।

বিগত দিনে যত কাজ করেছেন তার সবটাই ছিল সরকারী রুটিন ওয়ার্ক। দৃশ্যমান যত উন্নয়ন- তার পুরোটাই দাবীদার মাননীয় সাংসদ অধ্যপক আলী আশ্রাফ। তবে এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য দলের সিনিয়র নেতা ও নীতি নির্ধারকদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন কয়েকজন। তবে শেষ অব্দি কার ভাগ্যে নৌকার টিকেট জুটবে- সেটা সময়ের ব্যাপার। উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ১নং মাধাইয়া। হাজী ওয়াদুদ বলেন, আমার অতীতের পলিটিকেল ক্যারিয়ার ও এলাকার মানুষদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় আনলে আমি ইনশাআল্লাহ দল থেকে আমি নমিনেটেড হতে পারবো।

চান্দিনা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন বর্তমান। আর এখানকার সাংসদ অধ্যাপক আলী আশ্রাফ এমপি। তার সাংসদীয় এলাকায় চান্দিনা প্রতন্ত অ লে যথেষ্ঠ উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। এখানকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো উন্নয়নে যথেষ্ট দৃশ্যমান। সবকটি চেয়ারম্যান সরকার দলীয় হলেও কয়েকজন আছেন সুবিধাবাদী।

দলীয় ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও সমান ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে এবার আশার কথা যে, কাউকেই বিদ্রোহী প্রার্থী বলে আখ্যায়িত করা হবে না। জনগণ যাকেই পছন্দের তালিকায় রাখবেন তারা সবাই অংশ নিতে পারবেন। এমন সিদ্ধান্ত দলীয় ভাবে গৃহীত হয়েছে কদিন আগে।

এদিকে বিশ^স্ত সূত্রে জানা যায়, এবার যারা মনোনয়ন প্রত্যাশি সবাই আওয়ামী দলীয় নেতা কর্মী। দীর্ঘ দিন যাবৎ এ এলাকার নীতি নির্ধারক অধ্যাপক আলী আশ্রাফ এর সংসদীয় নির্বাচনে নিবেদিত কর্মী ছিলেন। এবং তারা আজও তার হয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। অবদানের কথা কথা সবাই এক বাক্যে প্রশংসিত করেছেন। তবে কাকে রেখে কাকে দলীয় টিকেট দেবেন- তা নিয়ে ঝল্পনা কল্পনার শেষ নেই। ১৩টি ইউনিয়নের সকল প্রার্থীরাই মনে করেন তারা এমপির পছন্দের মানুষ। এই পছন্দের প্রার্থীতা বাছাই করতে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের কাউন্সিল অধিবেশন কিংবা বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে দলীয় ভাবে নমিনেটেড করলে কোন বিদ্রোহী প্রার্থীর আগমন ঘটবে না। সবাই তার জন্য এক হয়ে কাজ করবেন। এ বিষয়ে হাজী ওয়াদুদ বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার তেমন কোন সুযোগ নাই। মাননীয় এমপি মহোদয় যে সিদ্ধান্ত দেবেন বা যাকে দল থেকে নমিনেটেড করবেন, আমরা তার জন্যই কাজ করে যাবো আগামী দিন গুলোতে। এবং নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করতে নিশ্চিত করবো। পাশাপশি জননেত্রী শেখ হাসিনার এবারের প্রতিপাদ্য- “আমার গ্রাম-আমার শহর” বাস্তবায়িত করতে আমি বদ্ধ পরিকর।

তবে হাজী ওয়াদুদ এক বাক্যে বলেন, এখানকার সকল উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু আমার মাননীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এফবিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, চান্দিনার যুবকদের আইকন-মুনতাকিম আশ্রাফ টিটু এর দিক নির্দেশনা ও পৃষ্টপোষকতায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখার চেষ্টা করবো। যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই- তাহলে স্বচ্ছতার মধ্যেই কাজ করে যাবো জনগণের জন্য। এদিকে ১৪২টি প্রথমিক বিদ্যালয়, ১৭টি স্কুল ৪ তলা নতুন ভবন সহ ও ৭টি মাদ্রাসা আধুনিক করণ সমাপ্ত করা হয়। আর এলাকার টিআর কাবিখা সহ অনেক উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আগামী নির্বাচনে ওয়াদুদকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে অনুমান করা যায়।

এদিকে ৪০ হাজার ভোটারদের মাঝে ৫০% নবীন এবং তরুণ ভোটাররা আগামীতে মোঃ জসিম উদ্দিন কে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী করতে তার পিছনে একাট্টা। অন্য দিকে ওয়াদুদ বলেন, আমি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছি। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আর আমার প্রিয় নেতা মাননীয় এমপি অধ্যাপক আলী আশ্রাফ ও পৃষ্টপোষক মুনতাকিম আশ্রাফ টিটু। জীবনে কোনদিন দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বাণিজ্য করি নাই। দরবার-শালিস বিচারে কোন পক্ষপাতিত্ব করি না। আর কোন গ্রুপিংয়ের রাজনীতি আমি করি না। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। আমার শুধু একটাই গ্রুপ- আর তা হল জননেত্রীর শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির পাশাপশি জনগণের সেবা প্রদান করা। ৫২ বছরের হাজী আব্দুল ওয়াদুদ মাধাইয়ার ২নং ওয়ার্ডের ভোটার। এক সময় গুমতা স্কুলে পরাশোনা করেছেন। তখন থেকে ছাত্র লীগের রাজনীতি করতেন পরে যুব লীগের রাজনীতি। আর সব শেষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২ বারের সাধারন সম্পাদক। ২০১৬ তে একবার ইউপি নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এবার জনপ্রিয়তার কারনে নমিনেটেড হতে পারেন বলে অনেকের দৃঢ় বিশ্বাস

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!