চালের শুল্কায়ন জটিলতায় আমদানিকৃত চাল ছাড়করন হয়নি

সালাহউদ্দিন বকুল, হিলি প্রতিনিধি।।

78

দেশের বাজারে চালের মুল্য স্থিতিশীল রাখতে ভারত থেকে চাল আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় দুবছর পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি হলেও চালের আমদানি শুল্কহার কমানোর বিষয়টি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়া ও শুল্কায়ন জটিলতায় আমদানিকৃত চাল বন্দর থেকে ছাড়করন সম্ভব হয়নি।

গতকাল শনিবার বন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধের পর প্রথম চালান হিসেবে ৩টি ট্রাকে ১১২ টন চাল আমদানি হয়েছে। আজ রবিবার বন্দর দিয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির হেনা এন্ট্রারপ্রাইজ নামের অপর এক আমদানিকারকের ২০টি ট্রাকে ৮২৮টন চাল আমদানি হয়েছে। এদিকে রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাস্টমসের সার্ভারে চাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কের বিষয়টি সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়ায় পণ্যের বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট করা সম্ভব হয়নি। পরে সার্ভারে শুল্কের বিষয়টি সংযুক্ত হলেও শুল্কায়ন মুল্য জটিলতায় কোন চাল ছাড়করন সম্ভব হয়নি। হিলি স্থল শুল্কস্টেশন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে বর্তমানে চাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক নির্ধারন করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সিডি ১৫ভাগ, এটি ৫ভাগ, এআইটি ৫ভাগ।

আমদানিকৃত চালের কার্যসম্পাদনকারী হিলি স্থলবন্দরের সিআ্যন্ডএফএজেন্ট শেরেগুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নওগার মেসার্স জগদিশ চন্দ্র রায় খাদ্যমন্ত্রনালয় থেকে ১১২নং স্মারকমুলে ভারত থেকে ১০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছিলেন। তার মধ্যে গতকাল শনিবার প্রথমবারের মতো ৩টি ট্রাকে ১১২টন চাল আমদানি করেছেন। ভারতীয় রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মারুতি ইন্টার ন্যাশনাল এই চালগুলো রফতানি করছেন। প্রতি মেট্রিকটন চাল ৩৫৬মার্কিন ডলার মুল্যে আমদানি করা হয়েছে।

তবে চাল আমদানিতে সরকার যে ৬২.৫ শতাংশ শুল্ক থেকে কমিয়ে ২৫ ভাগ করে, এর পরে আরেকদফা কমিয়ে তা ১৫ভাগ করে। এর গেজেট পেলেও কাস্টমসের সার্ভারে চালের আমদানি শুল্ক কমার বিষয়টি পর্যন্ত সংযুক্ত হয়নি। এর কারনে গতকালকে আমদানিকৃত চাল ছাড় নেওয়ার জন্য কাস্টমসে বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট করতে পারিনি। আজ রবিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাস্টমসের সার্ভারে শুল্ক কমানোর বিষয়টি সংযুক্ত ছিলনা যার কারনে বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট সম্ভব হয়নি। বিকেল ৩টার পরে কাস্টমসের সার্ভারে চালের শুল্কহারের বিষয়টি সংযুক্ত করা হয় এর পরে আমরা আমদানিকৃত চালের বিলঅবএন্ট্রি সাবমিট করি।

কিন্তু ভারত থেকে প্রতিটন চাল ৩৫৬ মার্কিন ডলার মুল্যে আমদানি করলেও হিলি কাস্টমসে চালের শুল্কায়ন মুল্যের রেফারেন্স রয়েছে ৩৬০ থেকে ৩৯০ মার্কিন ডলার মুল্যে কিন্তু কাস্টমস ৪শ ১০/২০ মার্কিন মুল্যে শুল্কায়ন করবে এতে করে আমাদের বাড়তি শুল্ক দিতে হবে যার কারনে আমরা চাল ছাড়করন নেয়নি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি পুর্বের রেফারেন্স মুল্যে শুল্কায়ন করতে। শুল্কায়ন মুল্য নির্ধারীত হলে আগামীকাল সোমবার বন্দর থেকে প্রক্রিয়া সম্পুর্ন করে আমদানিকৃত চালগুলো ছাড়করন করে আমদানিকারকের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আর এসব চাল তিনি দেশের বাজারে সরবরাহ করবেন এতে করে চালের যে উদ্ধমুখি অবস্থা দাড়িয়েছিল সেটি কমে আসবে বলেও জানান তিনি।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম বলেন, চাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কহার কম বেশির বিষয়টি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত না হওয়ায় গতকাল শনিবার বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত চাল ব্যবসায়ীরা ছাড় নিতে পারেনি। তবে গতকাল রাতেই পেঁয়াজের শুল্কহার বাড়ার বিষয়টি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত হয়েছে। আজকে বিকেলে চালের শুল্কহারের বিষয়টি কাস্টমসের সার্ভারে সংযুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। আমদানিকৃত চালগুলি এখন খালাস নিতে পারবেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!