চৌদ্দগ্রামের বিখ্যাত কাঁচবালি এখন বিলুপ্তির পথে

 রুবেল মজুমদার।।

153
কুমিল্লা জেলা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিখ্যাত কাঁচবালি এখন বিলুপ্তির পথে। সীমান্তবর্তী এই উপজেলার ও ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মাঝারি আকারে শিল্প কলকারখানা ও নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের কারণে বালি উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীদের সূত্রে জানা যায়,ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই খনি থেকে বালি উত্তোলন করা হতো। তখন পাকাঘর ও সরকারি যে কোনো স্থাপনা নির্মাণে এই বালি ব্যবহার করা হত। সে সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় শ্রমিকরা গরুর গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে এ বালি আনা নেয়ার কাজ করত। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে একটা সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা যায়, এ বালি কাঁচ ও সিলিকন তৈরির কাঁচামাল।
সেই থেকে এ বালি চৌদ্দগ্রামসহ সারাদেশে কাঁচবালি বা সিলিকন বালি হিসেবে পরিচিত হয়। তখনকার সময়ে জেলা কালেক্টর অফিসার ও রাজস্ব কর্মকর্তা নির্দিষ্ট স্থানের এই বালি খনিটি ইজারা দিত। উত্তোলনকৃত বালি দ্বারা দেশ বিদেশে গ্লাস তৈরি হত। ফলে সরকারি কোষাগারে মোটা অঙ্কের রাজস্ব জমা পড়ত।
বর্তমানে এই খনি থেকে আর কাঁচবালি উত্তোলিত হয় না। বর্তমানে এটি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাঁচবালি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদগুলোর ১টি। যা সাধারণত কাঁচ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দেশের পিএইচপি গ্লাস ফ্যাক্টরিতে সবচেয়ে বেশি ৭১% ভাগ কাঁচবালি ব্যবহার করা হয়।
কোয়ার্টজ কাঁচশিল্প ছাড়াও সোলার প্যানেলের সিলিকনের চিপ তৈরিসহ এ ধরনের বিভিন্ন কাজে কাঁচবালি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্থানীয়রা জানান, দেশ বিভাজনের পর থেকে এ খনি থেকে বালি উত্তোলন করত উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়ির কৃতি সন্তান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী আফতাবুল ইসলাম গেদু মিয়া। তিনি তৎকালীন কালেক্টর অফিসারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে বালি উত্তোলন করে চট্টগ্রামের ওসমানিয়া গ্যাস ফ্যাক্টরিতে চালান করতেন।
তার মৃত্যুর পরে স্থানীয় কর্তা-ব্যক্তিরা বিভিন্ন সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এ বালি উত্তোলন করত এবং রাতের আঁধারে চোরাই পথে তা পাচার করে দিত। ২০০৫ সালে ভারত সরকার সীমান্তবর্তী এলাকায় নো-ম্যান্স ল্যান্ডে কাটা তারের বেড়া নির্মাণ করলে এ খনিজ সম্পদটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। ভূ-তত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে খনিটির অবস্থান ছিল রগুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে।
বাংলাদেশের লাইফ-লাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে উত্তরে-দক্ষিণে প্রায় দশ কিলোমিটার জুড়ে এই খনিটি বিদ্যমান ছিল। সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরা রাজ্যের এক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়, কাঁচবালি এখন তাদের দখলে। অথচ কিছুদিন আগেও এখানকার বালি শ্রমিকরা মেশিনের সাহায্যে বালি উত্তোলন করে পরিস্কার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাত।
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কলকারখানা ও ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঁচবালি উত্তোলন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত আসলে উপজেলা প্রশাসন সকল প্রকার সহযোগিতা করবে’।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!