জিয়াউর রহমানের আমলে তথাকথিত সামরিক অভূত্থানের ঘটনা তদন্তের দাবিতে প্রেসক্লাবে মানববন্ধন

64

দেলোয়ার হোসেন জাকির

১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে তথাকথিত সামরিক অভূত্থানের ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন সাতাত্তরের ষড়যন্ত্রের শিকার ‘আমরা’ নামক একটি সংগঠন।
২ অক্টোবর বেলা ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্রে অন্যায়ভাবে যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের স্ত্রী-সন্তান ও স্বজন এবং কারাদন্ড, চাকুরিচ্যুত সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা এ দাবি জানান।
সাতাত্তরের ষড়যন্ত্রের শিকার সার্জেন্ট এনামুল হকের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিচারপতি এইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। প্রধান বক্তা ছিলেন ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ষড়যন্ত্রের শিকার বিমান বাহিনীর সার্জেন্ট মঈনুদ্দীনের ভাই আ.ক.ম. বাহাউদ্দিন বাহার এমপি। বক্তব্য রাখেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক হাবিব উল্লাহ তুহিন।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, জিয়াউর রহমান একজন নিকৃষ্ট ঠান্ডা মাথার খুনি। সে হিটলারের চেয়েও বেশি রক্ত পিপাসু ছিল। হিটলারের মধ্যেও মানবতাছিল, কিন্তু তারমধ্যে মানবতা বলতে কিছুই ছিল না। এজন্য সে কালো চশমা পরে থাকতো, যাতে তার চোখ কেউ দেখতে না পারে।
তিনি বলেন, জিয়া মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র হয়ে কাজ করেছে। ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে মেজর জিয়া তার সামরিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এ দেশের হাজার হাজার দেশপ্রেমিক সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
আ. ক. ম. বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, ‘আমরা চার ভাই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। এরমধ্যে এক ভাইকে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে মেজর জিয়ার ষড়যন্ত্রের নীল-নকশা জাতির কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি অন্যায়ভাবে ফাঁসি, কারাদন্ড ও চাকরিচ্যুত সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের তদন্ত সাপেক্ষে নির্দোষ প্রমাণ রাষ্ট্র ও সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি জিয়ার ক্ষমতা পাকাপুক্ত করতে যারা প্রহসনের ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে তামাশা করেছে তাদেরও বিচার করতে হবে।
তারানা হালিম বলেন, ইতিহাসের আরেক ঘৃণ্য ও জঘন্যতম হত্যাকান্ড ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর। ১৪০০ সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সামরিক ট্রাইব্যুনালে মার্শাল ‘ল’ কোর্টে তথাকথিত বিচারের নামে কারা অভ্যন্তরে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলিয়ে এবং অমানবিক নির্যাতন করে ফায়ারিং স্কটে হত্যা করে। ১৯৭৭ সালে ৮ অক্টোবর হত্যার পর এই খুনী জিয়া ১৯৭৭ সালের ১৪ অক্টোবর মার্শাল ‘ল’ গঠন করে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের অন্যায়ভাবে হত্যা করে তাদের মরদেহ পর্যন্ত গুম করে ফেলে। পরিবারবর্গ ওইসব হতভাগ্য সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের লাশটুকু পর্যন্ত দেখতে পায়নি, ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী মরদেহের দাফন কাজটুকুও করতে দেয়নি। অন্যদিকে ৩ হাজারেরও বেশি সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের টর্চার সেলে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করে বিভিন্ন মেয়াদে অন্যায়ভাবে কারাদন্ড দেয় এবং প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর যারা খুনী জিয়ার সামরিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে যাদের ফাঁসি, কারাদন্ড ও চাকুরিচ্যুত হয়েছে তাদের প্রত্যেককে স্ব স্ব পদে সর্বোচ্চ র‌্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ সরকারি সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা, সকল সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের পুনর্বাসিত করার লক্ষ্যে তাদের পোষ্যদের যোগ্যতা অনুসারে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া, ওই সময়ে সামরিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি হয়েছে তাদের কবরস্থান চিহ্নিত করে কবরস্থানে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা, ষড়যন্ত্রের শিকারদের তালিকা প্রকাশ এবং জিয়াউর রহমানের মরনোত্তর বিচারসহ ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।

আরো পড়ুনঃ