ঝালকাঠি নির্বাচনী সহিংসতায় কলেজ ছাত্র নিহত, মা-বাবা ভাইসহ ১৫ আহত, ৪ গ্রেফতার

কাজী খলিলুর রহমান ,ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।

16

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংর্ঘষে আরিফ হোসেন (২০) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা, বাবা, ভাই ও চাচাসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা কাঠালিয়ার আমুয়া ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ছোনাউটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ২১ জুন কাঁঠালিয়ার আমুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন মজিবর রহমান। মঙ্গলবার রাতে বিজয়ী মেম্বারের সমর্থকরা স্থানীয় ছোনাউটা কেরাত আলী দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় পিকনিকের আয়োজন। একই ওয়ার্ডের পরাজিত মেম্বার প্রার্থী ফারুক মিয়ার কর্মী আলী হোসেন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বিজয়ী মেম্বার মজিবর রহমানের সমর্থকরা তাকে আটকে বেঁধে রাখে।

এ খবর পেয়ে ফরুকের লোকজন আটক হোসেনকে ছাড়াতে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ বাঁধে। সংর্ঘষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আরিফ হোসেনকে (২০) বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে তিনটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে। নিহত আরিফ উপজেলার ছোনাউটা গ্রামের শিক্ষক শাহ আলম আকন লাল মিয়ার ছেলে।

সে বাগেরেহাট সরকারি পিসি কলেজের অর্নাস তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। নিহত আরিফের মা শাহনাজ পারভীন, বাবা লাল মিয়া বড় ভাই সফিকুল ইসলাম, চাচা ইব্রাহিব ও সোহরাব আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর একজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্যরা আমুয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

কাঁঠালিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় জানান, সংর্ঘষে নিহতের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহত আরিফের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!