ঝিনাইদহে ২০ কোটি টাকার রাস্তার পিচ হাত লাগালেই উঠে আসছে

61

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি।। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ডাকবাংলা পর্যন্ত মোট ২২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০ কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু সাত দিনের মাথায় এ সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে যাচ্ছে। নতুন সড়কটিতে অসংখ্য ফাঁটলও দেখা দিয়েছে।

নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের জন্য সড়কটির এ হাল হয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে অল্প কিছু অংশে সড়কের কাজ করার কারণে এমন হয়েছে। তবে, সড়ক তৈরির তিন বছরের মধ্যে কোনো ক্ষতি হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়ভার বহন করবে। এদিকে সোমবার বিকেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বেশি ভেঙে যাওয়া অংশে পুণ:নির্মাণের জন্য শ্রমিক লাগিয়ে পিচ উঠিয়ে ফেলছেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি সব টুকুতেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে গান্না হয়ে ডাকবাংলা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কে কাজ চলছে। কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে কাজ শুরু করে ৪ থেকে ৫ দিনে কমপক্ষে ৪ কিলোমিটর কাজ সম্পন্ন করেছে। কিন্তু এরইমধ্যে সড়কের শ্রীরামপুর এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার অংশে সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে।

খুলনার মোজাহার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কিন্তু হাত বদল হয়ে সড়কের কাজটি করছেন ঝিনাইদহের ঠিকাদার মিজানুর রহমান মাসুম ।

সড়কটির কাজ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমনটি হয়েছে। তবে সিডিউল অনুযায়ী সড়কে কাজ সম্পন্নের তিন বছরের মধ্যে কোনো সমস্যা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুনরায় মেরামত করবে। বৃষ্টির জন্য কাজ বন্ধ রয়েছে। এরইমধ্যে সড়কে সমস্যা হয়েছে। তবে কাজ শুরু হলে আগে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানের কাজ করা হবে।

এদিকে কাজের বদলী ঠিকাদার মিজানুর রহমান ওরফে মাসুম সড়কের কাজে কোনো নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার হচ্ছে না দাবি করে জানান, যেখানে পিচ উঠে যাচ্ছে, সেখানে টিউবওয়েলের পানি যায়। যে কারণে এমন হয়েছে। তাছাড়া বৃষ্টির দিনে কাজ করায় এমনটি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সড়ক পুনরায় করা হবে।

ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্দ জিয়াউল হায়দারের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলে ফোন রিসিভ করেননি। পরে পরিচয় জানিয়ে ক্ষুদে বার্তা দিলেও উত্তর আসেনি।

এদিকে কালীগঞ্জের ইউএনও সূবর্ণা রানী সাহা জানান, নির্মিত সড়কের অংশটুকু তিনি নিজে গিয়ে দেখেছেন। নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। বিষয়টি ডিসিকে জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!